কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে এবার নিজ এলাকায় কোটি টাকার ওয়াক্ফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও মুসল্লিরা এমন অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঢাকা ও সারা দেশে নানা অপকর্মে বিতর্কিত শাহরিয়ার মাহমুদ নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ওয়াক্ফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াক্ফ এস্টেট, দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াক্ফ এস্টেট এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াক্ফ এস্টেট।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত অভিযোগ ও নথিপত্র অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ওয়াক্ফ প্রশাসনের কোনো তোয়াক্কা না করে শাহরিয়ার মাহমুদ ওয়াক্ফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, টয়লেট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একইভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এবং অকার্যকর কমিটির দোহাই দিয়ে ভুয়া রসিদ বইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উত্তোলন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। সরকারি তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এত দিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাজধানী ঢাকায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো. মানিক, মো. রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, মসজিদের মুসল্লি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য জানার জন্য স্থানীয়ভাবে খোঁজ করে অভিযুক্ত শাহরিয়ার মাহমুদের পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াক্ফ এস্টেট নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গত বৃহস্পতিবার তিনি পেয়েছেন। অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্তের জন্য তিনি আগামীকাল রোববার একজনকে দায়িত্ব দেবেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।