রাঙামাটিতে শিক্ষককে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় অবরোধ শুরু হয়। বেলা তিনটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিদ্যালয়ের সামনের তবলছড়ি–আসামবস্তি সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলছিল।
গত রোববার ফল প্রকাশের পর অকৃতকার্য হওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের হাতে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘জাস্টিস ফর টিচার, জাস্টিস ফর টিচার’, ‘শিক্ষকের গায়ে হাত কেন, অভিভাবক জবাব চাই’, ‘শিক্ষক কেন লাঞ্ছিত জবাব চাই’ ও ‘শিক্ষক অপমান বন্ধ চাই’ বলে স্লোগান দেয়। অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ফেল করা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আমাদের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছেন। শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচারের দাবিতে আমরা সড়ক অবরোধ করেছি।’
রোববার অভিভাবকদের হাতে চার শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলে জানান রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনা মেনে নিতে পারছে না। এর প্রতিবাদে তারা সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। ফেল করা শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মুঠোফোনের আঘাতে চুমকি চাকমা নামের এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজু আহমেদ, মো. কবির আলম ও মো. হানিফ সরকার নামের তিন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।’
রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮২ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে ফেল করেছে। তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে অভিভাবক ও ফেল করা শিক্ষার্থীরা রোববার বিকেলে সড়ক অবরোধ করে। পরে ৭ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এবং নবম শ্রেণির তিন বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদেরও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যরা তিন থেকে পাঁচটি বিষয়ে ফেল করায় নতুন ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়নি।
জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সরিৎ কুমার চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে খবর নিচ্ছেন তিনি।