পাবনার ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর ১২ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষা সংক্রমণের কারণ জানতে কাজ শুরু করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধিদল। রোববার সকাল থেকে প্রতিনিধিদলটি কাজ শুরু করে।
সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। প্রথম দিনে প্রতিনিধিদলটি যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে।
প্রতিনিধিদলের প্রধান মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, প্রথম দিনে তাঁরা ক্ষতস্থানে যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন। হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার হওয়া অন্য রোগীদেরও খোঁজখবর নেবেন তাঁরা। একদিকে নমুনা পরীক্ষা চলবে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ চলবে। পর্যবেক্ষণের দ্বিতীয় দিনে সোমবার হাসপাতালটিতে ব্যবহৃত অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করবেন।
শাহরিয়ার সাজ্জাদ প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ যক্ষ্মা ছড়ানোর কারণ ও এর তীব্রতা খতিয়ে দেখতেই এই অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। সবদিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংক্রমণের মূল উৎস চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। সব ল্যাব পরীক্ষা শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের পর গত আগস্টে ১২ জনের ক্ষতস্থানে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। তাঁদের মধ্যে ১১ জনই প্রসূতি ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ২৪ আগস্ট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতালটির অস্ত্রোপচার কক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সঙ্গে বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানায়।
ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান জানান, যক্ষ্মায় আক্রান্ত ১২ জন রোগী বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন চিকিৎসাধীন। তাঁদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা নেওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। গত কয়েক মাসে হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচার হওয়া অন্য রোগীদের বিষয়েও স্বাস্থ্য বিভাগ খোঁজ নিচ্ছে।