পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ, নদে ভাসছিল মরদেহ, পকেটের চাবির গোছায় পরিচয় শনাক্ত

ফরিদপুরে কুমার নদ থেকে এক কলেজছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষীপুর মদনখালী স্লুইসগেট–সংলগ্ন এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

সপ্তমীর দিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন মন্দিরে পূজা দেখেন কলেজছাত্র কৌশিক সাহা (২৩)। সন্ধ্যার পর বাড়িতে ফিরে আবার পূজা দেখতে বের হন তিনি। যাওয়ার সময় মায়ের কাছ থেকে বাড়ির ফটকের চাবি নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরাও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান পাননি।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষ্মীপুর মদনখালী স্লুইসগেট-সংলগ্ন কুমার নদে কৌশিকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু শুরুতে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে পরনের ট্রাউজারের পকেটে থাকা চাবির গোছা দিয়ে বাড়ির তালা খোলার পর তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।

কৌশিক সাহা ওরফে জিতু ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ কুমার সাহার ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

গত রোববার সন্ধ্যার পর তিনি নিখোঁজ হন। কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরদিন সোমবার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা কমলেশ কুমার সাহা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাতটার দিকে মদনখালী স্লুইসগেট-সংলগ্ন কুমার নদে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। তাঁরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নৌ পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের একটি দল অজ্ঞাতনামা অবস্থায় অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় মৃত ব্যক্তির ট্রাউজারের পকেট থেকে একটি চাবির গোছা পায় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে স্বজনেরা এসে পরনের টি-শার্ট ও ট্রাউজার দেখে মরদেহটি নিখোঁজ কৌশিকের বলে জানান। বিষয়টি নিশ্চিত হতে পকেটের চাবির গোছা নিয়ে কৌশিকের বাড়িতে গিয়ে তালাগুলো পরীক্ষা করা হয়। এরপর পুলিশ নিশ্চিত হয় মরদেহটি নিখোঁজ কলেজছাত্রের। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

কৌশিক সাহা
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণত এত অল্প সময়ে লাশে পচন ধরে না। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গরমসহ আবহাওয়াগত কারণে বিভিন্ন সময় দ্রুত মরদেহে পচন ধরতে পারে।

কৌশিকের কাকা সুকেশ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে হঠাৎ করে খবর আসে স্লুইসগেটে একটি লাশ পাওয়া গেছে। তখন আমরা সেখানে ছুটে যাই। তবে চেহারা দেখে বোঝা যাচ্ছিল না। টি-শার্ট ও ট্রাউজার দেখে মরদেহটি কৌশিকের বলে শনাক্ত করি। এ ছাড়া ওর (কৌশিক) কাছে থাকা চাবিটি তাদের বাসার গেটের বলে শনাক্ত হয়। তবে কীভাবে কী হয়েছে, এখনো আমরা কিছু জানি না। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।’

মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসানসহ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

ওসি মো. মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলেজছাত্রের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের একাধিক দল ও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে। আশা করছি, এই রহস্য খুব দ্রুতই আমরা উদ্‌ঘাটন করতে পারব।’