ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ছাত্রলীগের ছেলেরা, তোমরা ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে। নিজেরা কোনো দুর্নীতিতে জড়াবে না এবং নিজেদের মধ্যে হানাহানি-মারামারি করবে না। কারণ, এখন তোমরা দেখতে পাচ্ছ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে চেষ্টা চলছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, কিছু কিছু মিডিয়া তিলকে তাল করে এমনভাবে উপস্থাপন করে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, কারণটা কী? ছাত্রলীগ ধ্বংস করে দিচ্ছে?’

চলতি বছর ‘খুবই ক্রুশিয়াল’ উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘এখন ইলেকশনের বছর। যদি ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ দেখতে চাই, আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে শতভাগ বাস্তবায়িত দেখতে চাই, সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর সরকারকে আবার এ দেশে আসতে হবে।’

ফরিদ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘এ কথা আমি বলতে পারি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। এখানে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যেমন বড় ভূমিকা আছে, ছাত্রলীগের একটা বড় ভূমিকা আছে। ছোটখাটো প্রবলেম হতে পারে। সেগুলোর সমাধান হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এটাকে অনেক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে, বেপরোয়া হয়ে গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে, এ রকমভাবে উপস্থাপন করা হয়।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘যাঁরা এই সমস্ত রিপোর্ট করেন, তাঁদের আমি বলব, আপনারা দয়া করে বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট করেন। আপনারা বাস্তবতার বাইরে গিয়ে এভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন নিউজ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। বাংলাদেশে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা-গবেষণায় সব জায়গায় আমরা ভালো করছি। সুশাসনের দিক দিয়ে আমরা অনেক ওপরে আছি। কিন্তু কীভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিচে টেনে নামানো যায়, এ জন্য অপচেষ্টা চলছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের বিষয়েও কথা বলেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছর খুব ভালো যাচ্ছিল। এ বছর কিছু কিছু আনাগোনা আমরা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু প্রশাসন এ ব্যাপারে খুব সজাগ। ছাত্রলীগের ছেলেরা সজাগ। আমাদের শিক্ষকেরা কিন্তু অনেক সজাগ। বিভাগীয় প্রধান, হলের প্রভোস্ট, প্রক্টর সবাই সজাগ আছি। তারপরও এক-দুইটা ঘটনা ঘটে যায়। সে জন্য আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্তে যাকে দোষী পাব, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

র‍্যাগিংয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে বলে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘নেতা হোক আর যা–ই হোক, কোনো জায়গায় তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স। যাঁদের আমরা সম্পৃক্ত পাব, তাঁকেই কঠোর শাস্তি দেব। অন্যদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য এ এক্সাম্পল (উদাহরণ) আমরা তৈরি করব। আগে ২০১৭ সালে আমরা শাস্তি দিয়েছিলাম, ২২ জনকে এক্সপেল (বহিষ্কার) করেছিলাম, সে জন্য কিন্তু ভালোই যাচ্ছিল। স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসে। শুরুতেই র‍্যাগিংয়ের মাধ্যমে তাদের জীবনটা দুর্বিষহ করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।’