শরীয়তপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা, দুই আসামির বাড়িতে পুলিশের অভিযান
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে তিনজনের নামে মামলাটি করেন। এখন পর্যন্ত তাঁদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের নাম বলেছেন। এ ছাড়া পুলিশের তদন্তে আরও একজনের নাম উঠে এসেছে। ওই তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ডামুড্যার কনেশ্বর এলাকার সোহাগ খান (২৭), রাব্বি মোল্যা (২১) ও পলাশ সরদার (২৫)। ঘটনার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ দুজনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের বাবাদের আটক করে থানায় আনলেও পরে ছেড়ে দেয়।
ভুক্তভোগী খোকন চন্দ্র দাস উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় কেউরভাঙা বাজারে ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করেন। গত বুধবার রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা তাঁকে প্রথমে কুপিয়ে আহত করে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় এখন তাঁকে বার্ন ইউনিটের আইসিইউয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আহত খোকন হামলাকারী হিসেবে কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান ও সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যার নাম বলেছেন। ঘটনার পর কেউরভাঙা বাজারের ব্যবসায়ী ও তিলই গ্রামের বাসিন্দারা অভিযুক্ত দুজনকে আটকের দাবি জানালে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের না পেয়ে তাঁদের বাবাদের থানায় নেওয়া হয়। এ ছাড়া পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় অংশ নেওয়া পলাশ সরদার নামের আরেকজনের নাম জানতে পেরেছে। গতকাল গভীর রাতে থানায় তাঁদের তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস। এরপর সোহাগ ও রাব্বির বাবাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
খোকনের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা তার (খোকন) কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করার পর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় সে প্রাণে বেঁচে গেছে। জানি না কত দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনুক।’
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। আসামিদের সন্ধান জানতে তাঁদের দুজনের বাবাকে থানায় আনা হয়েছিল। মামলা করার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকায় আতঙ্ক
খোকন চন্দ্র দাসের প্রতিবেশী নিখিল দাস বলেন, ‘খোকন আমার বয়সে ছোট হলেও কর্মের কারণে তাঁকে আমরা সম্মান করি। তাঁর ওপর এমন হামলা আমরা মানতে পারছি না। ঘটনার পর থেকে ভয়ে আমরা বাড়ির বাইরে যাচ্ছি না। এ ঘটনায় এলাকায় সবার মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’
কেউরভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এনাম মুন্সি প্রথম আলোকে বলেন, খোকন চন্দ্র এলাকায় ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত। তিনি বাজারে ২০ বছর ধরে ব্যবসা করেন। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। সন্ত্রাসীরা কেন তাঁর ওপর হামলা করল, তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁর ওপর হামলার ঘটনাটি তাঁরা মানতে পারছেন না।