দুই দিন পর মধুখালীতে আবার মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর
ফরিদপুরের মধুখালীতে একটি কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি প্রতিমার মাথা ভেঙে ফেলা হয়।
এ নিয়ে গত দুই দিনে একই এলাকার দুটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বামুন্দী বাজারে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় শতবর্ষী বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরটিতে পাকা ভিত ও দেয়ালের পাশাপাশি চারচালা টিনের ছাউনি দেওয়া। এ ছাড়া সামনে গ্রিল দিয়ে আটকানো। তবে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা গতকাল রাতে গ্রিলের মধ্যে বাঁশ বা কোনো লাঠি প্রবেশ করিয়ে শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে।
মন্দিরটির পূজারী বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে গিয়ে প্রতিমা ভাঙার বিষয়টি টের পান। পরে বিষয়টি মন্দির কমিটির সভাপতিসহ এলাকাবাসীকে জানানো হয়।
বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, এ ঘটনা জানার পর তিনি থানায় খবর দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
গত সোমবার রাতে বামুন্দী বাজারে কালীমন্দিরে কালীদেবীর প্রতিমা ভাঙার ঘটনায় মামলা করেননি বলে জানান বামুন্দী বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানা নেই। তাই তিনি বুঝতে পারেননি, কাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।
তবে এলাকার একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, এ ঘটনায় পুলিশকে জানানো হলে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি চেপে যেতে এবং দ্রুত ভাঙা প্রতিমা বিসর্জনের পরামর্শ দেন। ওসির পরামর্শে ওই বাজারের লোকজন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিমাটি বিসর্জন দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী থানার ওসি শুকদেব রায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনা আমি ঘটনা চেপে যেতে বলব কেন, কেন মামলা নেব না? বাজারের মন্দিরের ঘটনায় এখনো মামলা করার সুযোগ আছে। পাশাপাশি গত রাতে বামুন্দী সার্বজনীন মন্দিরে কালীপ্রতিমা ভাঙচুরের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’