ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সিদলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে গতকাল বিকেলে সাহেবেরচর গ্রামের পাশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষের ঢল নামে। এর মধ্যে অনেকেই ছোট নৌকা নিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করছিলেন। সিফাত ও ইয়াছিন স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ছোট নৌকায় ওঠে। তবে কিছুক্ষণ পরই নৌকাটি অন্য আরেক নৌকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। এ সময় অন্যরা সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সিফাত ও ইয়াছিন নদের পানিতে তলিয়ে যায়।

দুই নৌকার সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর থেকে কিশোরগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ শুরু করে। তবে রাত সাড়ে আটটার তাদের উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবুজর গিফারী বলেন, রাত হয়ে যাওয়ায় গতকাল উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। তবে আজ সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় আয়োজকদের গাফিলতি রয়েছে দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। সাহেবেরচর গ্রামের নুরুল ইসলাম, কামাল হোসেনসহ কয়েকজন বলেন, এত বড় নৌকাবাইচের আয়োজন, যেখানে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয়েছে। অথচ সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে রাখা হয়নি। আগে থেকে ডুবুরি দল থাকলে হয়তো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারত।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবুজর গিফারী বলেন, নৌকাবাইচের আয়োজনের অংশ হিসেবে সেখানে আগে থেকে ডুবুরি দল উপস্থিত থাকলে তারা আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারতে। কারণ, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে এবং অন্ধকার নেমে এসেছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন