default-image

যুবদল নেতা বদিউজ্জামান হত্যা মামলার আট আসামি হলেন যশোর শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার আবদুল আলীমের ছেলে আকাশ (২৫), ফরিদ মুন্সীর ছেলে রায়হান (২৫), শংকরপুর চোপদারপাড়া আকবরের মোড়ের মৃত আবদুর রশিদের ছেলে ও যশোর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শামীম আহম্মেদ (৪৮), বাবু মীরের ছেলে ইছা মীর (২০), টিবি ক্লিনিক এলাকার মিরাজুল বিশ্বাসের ছেলে মন্টু ওরফে অপূর্ব ওরফে আলী রাজ (২২), আফসারের ছেলে মিলন (২৪), চোপদারপাড়া সড়কের মো. লাভলুর ছেলে মো. রিজভী (২৬) ও টিবি ক্লিনিক এলাকার রইস উদ্দীনের ছেলে আল আমিন। এঁদের মধ্যে রায়হান, ইছা মীর ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে যুবদল নেতা বদিউজ্জামান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। এতে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার দলীয় কোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় পুলিশ সুপার প্রলয় জোয়ার্দার বলেন, ‘যশোর পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী শামীম আহম্মদের সঙ্গে বদিউজ্জামানের দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল ছিল। সেই কোন্দলের জেরে শামীমের নির্দেশে তাঁর ভাগনে রায়হানের নেতৃত্বে ৭–৮ জন বদিউজ্জামানকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ কারণে এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড শামীমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ভোররাতে যশোর শহরের টিবি ক্লিনিকপাড়ায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রায়হানকে ও খুলনার দিঘলিয়ার বারাকপুর এলাকা থেকে মামলার অপর আসামি ইছা মীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া র‍্যাবের অভিযানে এজাহারভুক্ত অপর আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি দা, একটি করে কুড়াল ও বার্মিজ চাকু বেজপাড়া আকবরের মোড়ের একটি পুকুর থেকে জব্দ করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বেজপাড়া আকবরের মোড়ে জেলা যুবদলের সহসভাপতি বদিউজ্জামানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

বদিউজ্জামান হত্যা মামলার বাদী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমার ভাই বদিউজ্জামান ও শামীম আহম্মেদ একসঙ্গে যুবদলের রাজনীতি করতেন। বদিউজ্জামান যখন জেলা কমিটির সহসভাপতির পদ পান, তখন শামীম ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হন। কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে বদিউজ্জামানকে শামীম ঈর্ষা করতেন। সম্প্রতি শামীমের মেয়ের জামাই খুন হলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বদিউজ্জামানকে ওই মামলায় ফাঁসিয়ে দেন শামীম। তাতেও তিনি ক্ষান্ত হননি। শেষমেশ শামীম তাঁর ভাগনে রায়হানকে দিয়ে আমার ভাইকে খুন করালেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন