জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নিহত হওয়ার ২০ মাস পর ময়মনসিংহে তরুণের লাশ তুলে ময়নাতদন্ত
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত এক তরুণের লাশ প্রায় ২০ মাস পর কবর থেকে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলার চরপুবাইল গ্রামের চকপাড়া মোড়–সংলগ্ন একটি মসজিদের পাশের কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য তোলা হয়।
ওই তরুণের নাম আবু সুফিয়ান ওরফে রাব্বি (১৯)। তাঁর বাড়ি চরপুবাইল গ্রামে। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় আবার রাব্বির লাশ কবরে রাখা হয়। আবু সুফিয়ানের গ্রামের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জের চরপুবাইলে। তিনি মা–বাবার সঙ্গে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় থাকতেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ওই এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
নিহত ব্যক্তির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে মিছিল বের করে জনতা রাস্তায় নেমে আসেন। ওই দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মিছিলে অংশ নেন আবু সুফিয়ান। মিছিলটি মাওনা শহীদি মোড় এলাকায় আসে। তখন একদল বিজিবি সদস্যবাহী বহরকে আটকে দেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। তখন আবু সুফিয়ানের পায়ে গুলি লাগে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান মাওনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ আগস্ট মারা যান আবু সুফিয়ান। ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন, ১৭ আগস্ট ঈশ্বরগঞ্জের চরপুবাইল গ্রামের একটি মসজিদ–সংলগ্ন কবরস্থানে আবু সুফিয়ানকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর জুলাই যোদ্ধা লেবু মিয়া বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (শ্রীপুর আমলি) আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির গাজীপুর জেলা পুলিশের উপপুলিশ পরিদর্শক আবু নোমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লাঠিচার্জ ও ছোড়া গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন আবু সুফিয়ান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে সে সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দাফন করায় আদালত চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী গতকাল দুপুরে লাশ তোলা হয়।