স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোল্লাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রিপন হোসেন পাটোয়ারীর সঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহাসিনা হকের কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে পুরো ইউনিয়নের মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত। আহত জিয়া সরকার মহসিনা হকের সমর্থক ছিলেন। কয়েক দিন আগে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পুরাবাজার এলাকায় চেয়ারম্যান রিপন হোসেন পাটোয়ারী একটি বিচার সালিসে যান। সেখানে এক পক্ষের লোকজন রিপনের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। জিয়া সরকারও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর জের ধরে আজ মঙ্গলবার দুপুরে টঙ্গিবাড়ি উপজেলার বেশনাল এলাকা থেকে জিয়াকে উঠিয়ে নেন চেয়ারম্যানের ভাই শিপন পাটোয়ারী।

পরে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আমঘাটা এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সৈবাল বসাক জানান, বেলা ৩টার দিকে ওই ব্যক্তিকে (জিয়া সরকার) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত ব্যক্তির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা দাগ ও থেঁতলানো রয়েছে। তাঁর একটি হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া দুপায়ে চারটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জিয়া সরকারের বড় ভাই বাবুল সরকার বলেন, রিপন চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁর ভাই শিপন, ‘সোহাগসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন জিয়াকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়েছে। দুই পায়ের মধ্যে গুলি করেছে। হাত ভেঙে দিয়েছে। আমরা স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে জিয়াকে হাসপাতলে নিয়ে আসি। ভাইয়ের অবস্থা ভালো না। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। জিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহাসিনা হকের সমর্থক ছিল। এ কারণে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁর ভাইরা জিয়াকে মেরে ফেলতে চেয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে রিপন হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘জিয়ার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাঁকে কারা তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করেছে তা আমি জানি না। আমাকে, আমার ভাই ও লোকজনদেরকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা দোষারূপ করা হচ্ছে।’

মুন্সিগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থান্দার খাইরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যানের ভাইসহ কয়েক জনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।