বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি প্রকল্পের আওতায় ওই এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, জুড়ীতে মাহফুজুল হক ফাহিম নামের ঢাকার এক ঠিকাদার এ কাজ পান। ২০২৩ সালের জুন মাসে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। দুই-তিন মাস আগে জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল এলাকায় এ কাজ শুরু হয়। সেখানে বেশ কয়েকটি জরাজীর্ণ লাইন রয়েছে। এসব লাইন নতুন করে স্থাপনের কথা।

এলাকাবাসী বলেন, সেখানে পিডিবির ১১ কিলোভোল্টের বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি থেকে ৪৪০ ভোল্টের আলাদা দুটি লাইনের মাধ্যমে আটটি পরিবারে সংযোগ দেওয়া হয়। গত রোববার সন্ধ্যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী (ফোরম্যান) আবদুর রহিম ও তাঁর সহযোগীরা গিয়ে দুটি সংযোগ লাইন কেটে তার নিয়ে চলে যান। এতে আটটি পরিবারের লোকজন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, মাসখানেক আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাঁদের নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ কাজের জন্য পাকা খুঁটি কেনা বাবদ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন তাঁরা। মনতৈলের ওই স্থানে ১৭টি পরিবার বসবাস করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে এসব পরিবারের লোকজন বৈঠক করেন। বৈঠকে ১৫ পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে এবং অসচ্ছল হওয়ায় দুটি পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে চাঁদার ৮০ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। এর কয়েক দিন পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পরিবারপ্রতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাঁদের এ প্রস্তাবে আটটি পরিবার রাজি হয়নি। পরে বাকি পরিবারের লোকজন চাঁদা দিয়ে আলাদা নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় তাঁদের নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করে দেওয়া হয়নি। এ কারণে ঠিকাদারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সংযোগ লাইন কেটে হয়রানিতে ফেলেন।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আবদুর রহিম রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পিডিবির অনুমতি ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার
কারণ জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোর কাছে ‘ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করে দেন’ বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর পুনরায় দুটি লাইনের সংযোগ স্থাপন করে দেন। চাঁদার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা পরিচালক মোশাররফ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী, তাঁরা জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করে নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কাজ করছেন। তিনি চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদা নেওয়ার সঙ্গে প্রকল্পের কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে সংযোগ লাইন কাটায় আবদুর রহিমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান।