যুবদলের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য, উত্তেজনা
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় যুবদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে নিজ বাসায় ফিরে যান। খানিক পর চলে যান টাঙ্গাইলে।
আজ বুধবার বিকেলে সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের উদ্যোগে একটি কর্মী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে টাঙ্গাইল–৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীরকে অতিথি করা হয়। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তবুও কাদের সিদ্দিকী ইতিমধ্যে সালাউদ্দিন আলমগীরের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
একই সময় কাদের সিদ্দিকীর বাসা থেকে প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে সখীপুর পৌর যুবদলের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কাদের সিদ্দিকী তাঁর বাসায় নির্ধারিত কর্মী সমাবেশ স্থগিত করে তা আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন। এরপর তিনি হঠাৎ যুবদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যোগ দেন এবং সেখানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানকে উদ্দেশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তিনি (আহমেদ আযম খান) একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পিঠের চামড়া তুলতে চেয়েছেন।’ এইটুকু বলার পরই প্রতিবাদ করেন উপস্থিত যুবদল নেতা–কর্মীরা। তাঁরা হট্টগোল শুরু করলে কাদের সিদ্দিকী তাঁর বক্তব্য বন্ধ করে চলে আসেন নিজ বাসায়।
কাদের সিদ্দিকী মাত্র পাঁচ মিনিট ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে কোনো চেয়ারেও বসেননি। দাঁড়িয়েই বক্তব্য দিয়েছেন। নিজ বাসায় প্রায় ১০ মিনিট অবস্থানের পর সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন।
এর আগে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে তিনি চান নির্বাচন সুষ্ঠু হোক।
কেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি বিএনপির বিপক্ষে নন, তবে টাঙ্গাইল–৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে কাদের সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, আহমেদ আযম খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পিঠের চামড়া তুলে ফেলতে চেয়েছিলেন। এ ছাড়া সখীপুরের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবীবকে আহমেদ আযম খানের লোকজন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁকে সম্মান করি। কিন্তু তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে এসে আমাদের নেতাকে অপমান করবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি নির্বাচন করছেন না। তাই তিনি নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।’
আজকের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলজুড়ে সখীপুরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। কাদের সিদ্দিকী তাঁর বাসায় কর্মী সমাবেশ ডেকে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাঁকে বলে কর্মী সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।