অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ফেরার পথে রাতে প্রকৌশলীকে অপহরণ, ভোরে উদ্ধার
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে এক প্রকৌশলীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলের সিপি মোড় এলাকা থেকে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁকে অপহরণ করা হয়।
ওই প্রকৌশলীর নাম বিজয় হোসেন (২৭)। তিনি নরসিংদী জেলার সদর থানার দড়িনবীপুর গ্রামের মো. ইসমাইল মিয়ার ছেলে। মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামের একটি প্রি–কাস্ট হাই পারফরম্যান্স কংক্রিট (পিএইচসি) পাইল উৎপাদন কারখানায় উৎপাদন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে কর্মস্থল থেকে বের হন বিজয় হোসেন। আজ ছুটির দিন হওয়ায় রাতে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কর্মস্থল থেকে বের হয়ে কিছুদূর যেতেই মুখোশ পরা দুই দুর্বৃত্ত জোর করে তাঁকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে আরও একজন অবস্থান করছিল। ওই মুখোশধারীরা প্রথমে তাঁর মুঠোফোন ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়। পরে হাত–পা বেঁধে ছবি তুলে বিজয়ের পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। বিজয়ের স্বজনেরা পরে কয়েক ধাপে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠান। তবু বিজয়কে ছেড়ে না দেওয়ায় রাতে নরসিংদী থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। এরপর মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানা–পুলিশ যৌথভাবে বিজয় হোসেনকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে ভোরে বিজয়কে আহত অবস্থায় অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের সামনে পাওয়া যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াকুব নবী প্রথম আলোকে বলেন, বিজয় হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সামুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারখানা এলাকা থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে সড়কে অপহরণের শিকার হন প্রকৌশলী বিজয় হোসেন। তাঁকে উদ্ধারের পর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রয়েছেন।’
অপহরণের শিকার বিজয় হোসেনের ভাই মো. জয় হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশের আন্তরিক চেষ্টাতেই আমার ভাইকে ফিরে পেয়েছি। সে এখনো ট্রমাটাইজ। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আমরা তাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। ভাই সুস্থ হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’
জানতে চাইলে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ওই প্রকৌশলীকে নিয়ে বারবার স্থান বদলাতে থাকে। অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
জানতে চাইলে মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা শিল্প পুলিশের পরিদর্শক শওকত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।