শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার পেছনে কারা জড়িত, কেন হত্যা করা হলো, স্মরণসভায় বক্তাদের প্রশ্ন

কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা। আজ মঙ্গলবারছবি: প্রথম আলো

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া শুধু হবিগঞ্জের সন্তান নন, তিনি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের একজন পরিচিত মুখ ও নেতা ছিলেন। তাঁর নিহত হওয়ার ২১ বছর পরও বিচার না হওয়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না। জাতি হিসেবে সবার দায় ও ব্যর্থতা আছে। এ মৃত্যু নিয়ে জাতির কাছে প্রশ্ন রয়েই গেছে, কেন তাঁকে হত্যা করা হলো। এই হত্যার পেছনে কারা জড়িত?

আজ মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জে শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পূর্তিতে স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। শাহ এ এম এস কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শহরের আরডি হল মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে এ স্মরণসভায় বক্তব্য দেন কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুস জাহের, পরিবেশকর্মী তোফাজ্জল সোহেল, সংগীতশিল্পী শাহ আলম চৌধুরী (মিন্টু), আবুল ফজল, কথাশিল্পী আবুল মনসুর ও সমাজকর্মী সাধন বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশ নেন শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্রবধূ ও রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া। সঞ্চালনায় ছিলেন লেখক সিদ্দিকী হারুন।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুস জাহের বলেন, ‘শাহ এ এম এস কিবরিয়া তাঁর কর্মের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলেছেন। এ মানুষটি যখন দেশের জন্য কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই আমরা এ মানুষটিকে মেরে ফেলি। শুধু কিবরিয়ার হত্যাই নয়, গত কয়েক যুগে আমরা অসংখ্য নেতাকে হত্যা করেছি। আমরা জাতি হিসেবে প্রশ্ন রাখতে চাই, স্বাধীনতার আগে ও পরে আমাদের যেসব নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, তাঁদের বিচার কেন আমরা দেখতে পাই না? হত্যাকারীদের কেন মুখোশ উন্মোচন হয় না? শাহ এ এম এস কিবরিয়া শুধু সাবেক অর্থমন্ত্রীই নন, তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক। জাতিসংঘে কাজ করা এই মানুষ এ দেশের মানুষের জন্য দেশে কাজ করতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সবার।’

সাবেক অর্থমন্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ঢাকা ও হবিগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়। কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আজ হবিগঞ্জ শহরের আরডি হল প্রাঙ্গণে এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে একটি জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন কিবরিয়া। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী নিহত হন। আহত হন আরও ৭০ জন। ঘটনার পরদিন হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়।