দুই যুগ পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আ.লীগের সম্মেলন আজ, আলোচনায় আছেন যাঁরা
দুই যুগ পর রোববার রোববার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। দীর্ঘ সময় পর সম্মেলন হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্মেলন ঘিরে পদপ্রত্যাশীদের ও নেতা-কর্মীদের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো নগর। বেলা তিনটায় ইসদাইর ওসমানী স্টেডিয়ামের মাঠে সম্মেলন শুরু হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড ও ঢাকা-পুরাতন সড়কে তোরণ তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনের জন্য ইসদাইর ওসমানী স্টেডিয়ামের দক্ষিণ কোণে নৌকার আদলে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই প্রথম আলোকে বলেন, সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলরদের ভোটে নয়, মতামতের ভিত্তিতে বাছাই হবে। পুরো বিষয়টি দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বর্তমান সভাপতি সভাপতি আবদুল হাই, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, সহসভাপতি আদিনাথ বসু ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নাম আলোচনায় আছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, দলের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের নাম।
১৯৯৭ সালে সর্বশেষ শহরের চাষাঢ়া জিয়া হলে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সম্মেলনে নাজমা রহমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে শামীম ওসমান দেশ ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে এস এম আকরামকে আহ্বায়ক ও মফিজুল ইসলামকে সদস্যসচিব করে জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কেন্দ্র। তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে আহ্বায়ক এস এম আকরাম দল ছেড়ে নাগরিক ঐক্যে যোগ দিলে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয় সদস্যসচিব মফিজুল ইসলামকে। মফিজুল ইসলামের মৃত্যুর পর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আবুল হাসনাতকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ওই কমিটিতে সহসভাপতির দুটিসহ ছয়টি পদ শূন্যই ছিল।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচটি উপজেলা ও একটি সাংগঠনিক ইউনিটের ৩৩৮টি কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠিত হবে। সম্মেলন সফল করতে ৯টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত না পৌঁছাতে পারলে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানান।