নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে জানিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এমনি এমনি আসেনি। বাংলাদেশ স্বাধীনের পেছনে অনেক ত্যাগ রয়েছে, অনেক মানুষের প্রাণ গেছে। তাই বাংলাদেশটা কীভাবে আসল তা জানতে হবে। কারা জীবনের বিনিময়ে এই দেশ এনে দিয়েছেন, সেই ইতিহাস মাথায় ঢোকাতে হবে।

default-image

বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে এখন থেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস জানা আবশ্যক জানিয়ে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ সৈয়দ কামাল বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে যে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে, তা এখন থেকেই তরুণ প্রজন্মের চর্চা করতে হবে। সারা বিশ্বে দেশকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সঠিক ইতিহাস জানার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদের বড় মেয়ে লেখক ও গবেষক শারমিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা—এই তিনটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অভিলাষ। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারিনি। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস সেভাবে প্রচায় হয়নি।’

শারমিন আহমদ আরও বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের একটা পটভূমি আছে, যেটাকে আমার মা বলতেন নিউক্লিয়াস। এখান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা নেয়। কিন্তু আমাদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুক্তিযুদ্ধের সেসব বীরত্বগাথা গুরুত্ব পায়নি। সেভাবে প্রচায় হয়নি। তাই আমরা আজ তোমাদের (শিক্ষার্থী) মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছি। এখন থেকে এভাবে সারা বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা ইতিহাসগুলো জানানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।’

প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রের প্রথমটি ছিল ‘জনযুদ্ধ ৭১’। এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা রণকৌশল, প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

দ্বিতীয়টি ‘মুজিবনগর: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সরকার’। এটিতে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ সাংগঠনিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ জন্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠনের উদ্যোগ নেন। তৃতীয় প্রামাণ্যচিত্রটি হলো ‘একাত্তরের নৌ কমান্ডো’। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অবিস্মরণীয় ঘটনা ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নিয়ে নির্মিত এটি। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরে একই সময়ে পরিচালিত অভিযানে ধ্বংস করা হয় পাকিস্তানি জাহাজ। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাতের এ অভিযান তুলে ধরা হয় এখানে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন