রুমা-বগালেক সড়কের শৈরতনপাড়া এলাকায় জুমঘরে বসে ছিলেন ম্যাসাংপ্রু মারমা (৬৫)। তিনি বলেন, জুমচাষের ফসল শ্রাবণের বৃষ্টিতে বেড়ে ওঠে। শ্রাবণের শেষে ভাদ্রের প্রথম সপ্তাহে ফলন শুরু হবে। কিন্তু ভরা বর্ষায় বৃষ্টি হয়নি বললেই চলে। জুম ফসল যতটুকু বেড়েছে, সেটা আষাঢ়ের বৃষ্টিতে হয়েছে।

ম্যাসাংপ্রু মারমার মা এ চিং বলেন, ৮০ থেকে ৯০ আঢ়ি (এক আঢ়িতে ১০ কেজি) ফসল পাবেন আশা করেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় তাঁরা হতাশ। এতে অনেক লোকসান হবে।

পলিকাপাড়ার থোয়াই সি মং মারমা তিন আঢ়ি জমিতে প্রধান ফসল ধানের সঙ্গে তিল-তিসি ও হলুদের চাষ করেছেন। তবে রোদের তাপে তাঁর জুমের ধানগাছ, তিল-তিসি সবকিছু নেতিয়ে পড়েছে। মং মারমা বলেন, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ফসলের খেত সতেজ থাকে। তখন গাছগুলো কিছুটা মাথা তুলে দাঁড়ায়। কিন্তু বেলা বাড়লে গাছ নেতিয়ে পড়ে। এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি না হলে শ্রাবণের শেষে বৃষ্টিতেও খুব বেশি কাজে আসবে না।

চিম্বুক পাহাড়ের চিংক্লাং ম্রো বলেন, জুমচাষিরা সবাই বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। মরিচ, তিল-তিসি, ভুট্টাসহ ৪০ ধরনের ফসল পাওয়া গেলেও মূলত ধানের জন্য জুমচাষ করেন। বৃষ্টির অভাবে জুমে ধান না হলে অনাহারে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বান্দরবানে এ বছর জুমচাষ বেড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় ২১ হাজার ৮৮৭ একর জমিতে চাষ হচ্ছে। গত বছর ২১ হাজার ৭৬৭ একর জমিতে চাষ হয়েছে। দুর্গম এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখনো জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। তাঁরা মূলত ধান উৎপাদনের জন্য জুমচাষ করেন। জেলার দুর্গম থানচিতে বেশি চাষ হয়ে থাকে। সেখানে এ বছর ৬ হাজার ৩৩৭ একর জমিতে জুমচাষ হচ্ছে।

বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, এ বছর জুমচাষ বাড়লেও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন ভালো না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে বিলম্বে বৃষ্টির কারণে বিলম্বে বীজ বপন করা হয়েছে। এমন আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকলে ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন