খেলা দেখে দেরিতে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য যুবকের, পরে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়ান সুমন হোসেন নামের এক যুবক। আজ সোমবার সকালে নিজ ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ দক্ষিণপাড়া এলাকায়।
নিহত সুমন হোসেন একই এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তাঁর পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। এ ছাড়া সুমন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।
রাত চারটার দিকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়িতে ফেরে সুমন। তাকে শুধু বলেছিলাম, এখন তোমার আসার সময় হলো? তখনই আবার বাড়ি থেকে মাঠের দিকে বের হয়ে যায়। এরপর আমি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখতে পাই, ঘরের ডাবের (আড়া) সঙ্গে সুমনের লাশ ঝুলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফেরেন সুমন। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা–কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। পরে আজ সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে তাঁকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
নিহত যুবকের স্ত্রী জেনি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাত চারটার দিকে ফুটবল খেলা দেখে বাড়িতে ফেরে সুমন। তাকে শুধু বলেছিলাম, এখন তোমার আসার সময় হলো? তখনই আবার বাড়ি থেকে মাঠের দিকে বের হয়ে যায়। এরপর আমি মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভোরে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখতে পাই, ঘরের ডাবের (আড়া) সঙ্গে সুমনের লাশ ঝুলছে।’
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় প্রতিবেশী আবদুল জলিল বলেন, ‘তখন আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টা হবে। আমি ফজরের নামাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলাম। এ সময় হঠাৎ সুমনের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে ভেতরে যাই। গিয়ে দেখি ঘরের ডাবের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে সুমন ঝুলছে। তাৎক্ষণিক আমি ও আরেকজন মিলে সুমনকে নামাই। এরপর স্থানীয় চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, সুমন নামে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করে ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, ‘কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জানতে পেরেছি, খেলা দেখে আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে সুমনের মনোমালিন্য হয়েছিল। আবার ওই যুবক আর্জেন্টিনারও সমর্থক ছিলেন।’