আড়াইহাজারে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে উপজেলার পুরাতন স্টিলব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আড়াইহাজার পৌরসভার শহীদ মঞ্জুর স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি চলছিল। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল নিয়ে তাঁর অনুসারীরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।
পরে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদের (সালামত) নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল মঞ্চের সামনে গেলে দুই পক্ষের নেতা–কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে দুই নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রা পুরাতন স্টিলব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে আবার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সালাউদ্দিন আহমেদের পক্ষের এরশাদুল্লাহ (৪৫), রিফাতুল্লাহ (৩৫), আনসার আলী (৪৪), বাহর আলী (৪৮) ও ফারুক (৪৫) আহত হন। অন্যদিকে মোবারকের পক্ষের সিদ্দিক (৬৫) ও শাহজাহান (৪০) আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের নাম জানা সম্ভব হয়নি।
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে রিফাতুল্লাহ ও শাহজাহানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, তাঁরা সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নির্দেশে নেতা–কর্মীদের নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে সাবেক ছাত্রদল নেতা মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় তাঁদের সাতজন নেতা–কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। রিফাতুল্লাহকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি মিছিলের সামনে ছিলাম। শুনছি সালামতের (সালাহউদ্দিন আহমেদ) লোকজন আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে। আমার পক্ষের বজলু ও শরীফ নামের দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে।’
আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মিছিল করা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষ—সালামত ও মোবারক গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।