মারা যাওয়া জাহাঙ্গীর আলম সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চর সাহাভিকারী গ্রামের মো. ইলিয়াছের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম সবার ছোট। তিনি জেদ্দায় এক ব্যক্তির গাড়ির চালক ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলমের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের বড় চার ভাই বিয়ে করেছেন। এর মধ্যে তিন ভাই আলাদা সংসার করছেন। শুধু জামশেদ আলম ও জাহাঙ্গীর তাঁর বৃদ্ধ মাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন। জামশেদ আলমও বিয়ে করেছেন। তিনি বাড়িতে মাকে দেখাশোনা করেন। চার বছর আগে সংসারের অভাব দূর করতে সৌদি আরব যান জাহাঙ্গীর। বিদেশে যাওয়ার পর তাঁর টাকাই চলত সংসার। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সংসারের সবচেয়ে কর্মঠ ছেলেকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ মা।

জাহাঙ্গীরের মা আতরের নেছা বলেন, শনিবার দুপুরে তাঁর ছেলে জেদ্দা থেকে মক্কার দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। পথে অপর একটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁর ছেলে মারা যায়।

আতরের নেছা বলেন, ‘সৌদি আরবে থাকা ছোট ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সে কামাই করে খাওয়াত। ভেবেছিলাম আগামী বছর ওকে দেশে এনে বিয়ে দিয়ে দেব। তার আগেই এভাবে চলে গেল। কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছি না।’

জাহাঙ্গীরের ভাই জামশেদ আলম বলেন, সৌদি আরব থেকে জাহাঙ্গীরের লাশ দেশে ফেরত আনা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত। তাঁরা কীভাবে কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর আলম সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ওই দেশে থাকা তাঁদের এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কীভাবে তাঁর লাশ দেশে আনা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে।