আড়াই ঘণ্টায় পড়েছে ৬ শতাংশ ভোট

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা এলাকার মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি উচ্চ বিদ্যালয়। আজ সকাল সোয়া ১০টায়ছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লায় মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি উচ্চবিদ্যালয়। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া-চকবাজার) আসনের ভোটকেন্দ্র এটি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রথম আড়াই ঘণ্টায় এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ৯টি ভোটকক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩২৮ জন ভোটার। নগরের এই ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৫ হাজার ১৯৬ জন। নারী ও পুরুষের জন্য যথাক্রমে ৩টি ও ৬টি করে ভোটকক্ষ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রের মূল ফটকের বাইরে প্রার্থীর সমর্থকদের ছোট জটলা। তবে কেন্দ্রের ভেতরে প্রায় ফাঁকা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া প্রহরা রয়েছে কেন্দ্রে।

এই আসনে ১০ জন প্রার্থী হলেও ভোটকক্ষগুলোয় সবার পোলিং এজেন্ট ছিল না। কেবল বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম ফজলুল্লাহের এজেন্ট দেখা যায়।

সকালে কেন্দ্রটিতে ভোট দিয়েছেন ৮৫ বছর বয়সী নরেশ চন্দ্র ধর। ভোটকেন্দ্রের পাশের এলাকা হাজারী গলিতে বাড়ি তাঁর। এই প্রবীণ ভোটার বলেন, স্বাধীনতার আগের নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন। এরপর দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় সব কটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এবারও দিলেন। ভোটের পরিবেশ বেশ ভালো, সুন্দর। পাড়ার লোকজনও আসছে ভোট দিতে।

একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন রেস্তোরাঁ মালিক মিলন চক্রবর্তী। তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, সকালে একটু ভিড় কম। তবে দুপুরের মধ্যে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ। কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ নেই। আর প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র দুজনের পোলিং এজেন্ট আছেন। অন্যরা কেন এজেন্ট দিতে পারেননি আমার জানা নেই।’

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন। বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ কে এম ফজলুল হক। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৬ জন, নারী ২ লাখ ২ হাজার ৪৪৮ জন এবং হিজড়া ৯ জন। আসনের ১২১টি ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন তাঁরা।