লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের তেঁতুলিয়া নদী থেকে পূর্ব দিকে বয়ে গেছে একটি খাল। খালের পাশে রাস্তাটি। এটি ‘খামারবাড়ি সড়ক’ নামে পরিচিত। ৩৫ বছর ধরে চর সামাইয়া গ্রামের প্রায় ৩০টি পরিবারের দুই শতাধিক মানুষ চলাচলের জন্য রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছিলেন। ইউনিয়নের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বিশ্বরোড-ধোপাবাড়ি পাকা সড়কের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিকে খামারের দিকে চলে গেছে রাস্তাটি। কোনো আলোচনা ছাড়াই ১৮ জুলাই চর সামাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নজরুল ইসলামের (সাবেক ইউপি সদস্য) বোন আঙ্কুরি বেগম ও তাঁর স্বামী আলম রাজমিস্ত্রি দিয়ে রাস্তাটির প্রবেশমুখের মাঝখানে পাকা দোকান নির্মাণ শুরু করেন। সেই সঙ্গে আশপাশে সুপারিগাছ লাগিয়ে দেন। ইতিমধ্যে মাটি থেকে প্রায় তিন থেকে চার ফুট দেয়াল তোলা হয়ে গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঠিক নয়। যখন পুরো এলাকার জমি মাপা হবে, তখন বোঝা যাবে রাস্তার জমি ইউনিয়ন পরিষদের নাকি আঙ্কুরি বেগমের। এ জন্য কাগজপত্র নিয়ে বসতে হবে। তিনি আরও বলেন, আঙ্কুরি বেগম তাঁর জমি না মেপে রাস্তার মধ্যে যদি পাকা দোকান তুলে পথ রোধ করে থাকেন, তা অযৌক্তিক। আর যদি তিনি চলাচলের পথ রেখে দোকান নির্মাণ করেন, তবে পথচারীদের সমস্যা নয়, খামারবাড়ির লোকজনের সমস্যা। কারণ, তাঁদের গাড়ি চলবে না। এখন সবাই যদি এ সমস্যার সমাধান চান, বসে সমাধান করতে হবে।

সরেজমিন গত বুধবার দেখা যায়, দোকানের পাশের বাগানের মধ্য দিয়ে মানুষ চলাচল করছেন। কোনো রিকশা ও গাড়ি যেতে পারছে না। হেঁটে সামনের দিকে এগিয়ে গেলে হাঁটুসমান কাঁদাপানি চোখে পড়ে। রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক কিলোমিটার। রাস্তাটির আশপাশে ও দূরে বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতি আছে। রাস্তার পাশ দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানা আছে।

ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে তোলা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ধোপাবাড়ির সামনের খালের পাশ দিয়ে খামারবাড়িতে যাওয়ার মাটির রাস্তাটি (হালট) চর সামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের। জমির পরিমাণ ১ একর ১৮ শতাংশ, যা বিএস জরিপ অনুসারে ৪ নম্বর খতিয়ানের ৩ নম্বর দাগভুক্ত; যা চর সামাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিবের তত্ত্বাবধানে আছে।

আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ও তাঁর বোন আঙ্কুরি বেগমের দাবি, বিএস জরিপে আঙ্কুরি বেগমের জমির পরিমাণ ১৮ শতাংশ, যা তাঁর ক্রয়কৃত রেকর্ডের সম্পত্তি। এখানে কোনো সরকারি বা ইউনিয়ন পরিষদের জমি নেই। সরকারি জমি আরও ২০০ হাত পশ্চিম থেকে শুরু।

আঙ্কুরি বেগম বলেন, তিনি তাঁর জমির ওপর দিয়ে গাড়ি চলার মতো রাস্তা দেবেন না। মানুষ হাঁটছে, হাঁটুক। এ কারণে দোকান তুলেছেন এবং হাঁটাপথ দিয়েছেন।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী সুজা বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কাগজপত্রে রাস্তার জমিটি ইউনিয়ন পরিষদের। এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হলে তিনি সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারতেন, ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ার কারণে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করতে বলেছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন