তিস্তা টোল প্লাজায় শিক্ষার্থী-পুলিশের ওপর হামলা, পৃথক দুটি মামলা দায়ের
লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুণ্ডায় তিস্তা সেতুর টোল প্লাজায় বাগ্বিতণ্ডার জেরে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এ আর এম মাহবুবার রহমান বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিস্তা টোল প্লাজার অজ্ঞাতনামা ১৫–২০ জন কর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সদস্যদের গালাগালি, হুমকি এবং তাঁদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হয়েছে। মামলার বাদী সদর থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, টোল প্লাজার দুজন কর্মচারীসহ অজ্ঞাতনামা তিন–চারজন ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবার রহমান বলেন, ‘সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষে আমরা মঙ্গলবার রাতে দুটি বাসে ৫৪ জন শিক্ষার্থীসহ কুড়িগ্রাম ফিরছিলাম। এ সময় টোল নিয়ে বাসের ড্রাইভার ও হেলপারদের সঙ্গে টোল প্লাজার কর্মীদের তর্কবিতর্ক হয়। টোল পরিশোধ করার পরও তাঁরা গালাগালি হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এ সময় তারা বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে গাড়ি থেকে টেনে হেচড়ে নামাতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে টোল প্লাজার অজ্ঞাত পরিচয় কর্মীরা লাঠি–খড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারপিট শুরু করেন। এতে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হন।’
আরেক মামলার বাদী এসআই এনামুল হক বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে টোল প্লাজার কর্মীদের হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের নিরাপদে এলাকা থেকে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ করে দিই। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিস্তা টোল প্লাজার দুজন কর্মচারীসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিন–চারজন আমাদের গালাগালি হুমকি–ধমকি দিতে থাকে। আমি সেটা মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে থাকি। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা আমার ওপর চড়াও হয়। মোবাইলফোন কেড়ে নিয়ে সড়কে ফেলে দেয়। সেখানে কর্তব্যরত একজন এএসআইসহ দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা করা হয়।’
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ ওই ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।