সুনামগঞ্জের দুই থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা

লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ ব্যক্তির ১০ জনছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে লিবিয়া-গ্রিস ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেম–যাত্রায়’ ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মানব পাচার অপরাধ দমন আইনে মামলা হয়েছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজন এবং দিরাই থানায় চারজনের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার রাতে মামলা দুটি করা হয়।

দিরাই থানায় করা মামলার বাদী হয়েছেন ভূমধ্যসাগের মারা যাওয়া দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান। জগন্নাথপুর থানায় করা মামলার বাদী হয়েছেন পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তাঁর ছেলে আমিনুর রহমান একইভাবে ভূমধ্যসাগরে মারা যান।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার আজ মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আমরা এ মুহূর্তে আসামিদের নাম প্রকাশ করছি না। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’

লিবিয়া থেকে ছোট রাবারের বোটে করে সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১২ জনের করুণ মৃত্যু হয়, তাঁদের সবাই তরুণ। এই যাত্রায় বেঁচে যাওয়া এক তরুণ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৮ জনকে নিয়ে ওই বোট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। সাগরে প্রথমে নৌযানটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। পরে পথ হারিয়ে বোটটি সাগরে ছিল ছয় দিন। তখন পানিশূন্যতা ও অনাহারে মারা যান অনেকে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই ১২ জন। দুই দিন লাশগুলো বোটে রাখার পর সঙ্গীরা পরে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ২৭ মার্চ গ্রিস উপকূলে ভাসতে থাকা বোট থেকে ২২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে সে দেশের কোস্টগার্ড। পরদিন শনিবার বিকেলে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে খবর আসে।

আরও পড়ুন

মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রিসে যেতে এসব ব্যক্তি ১০–২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। অনেকে গরু, জমিজমা বিক্রি করে দালালদের হাতে টাকা তুলে দেন। অবৈধ পথে ইউরোপে নিতে সুনামগঞ্জ জেলায় একটি দালাল চক্র গড়ে উঠেছে, যাদের সহযোগীরা রয়েছে লিবিয়ায়।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘জগন্নাথপুর ও দিরাই উপজেলায় ইউএনওরা দালালদের তালিকা করে সেটি পুলিশকে দিয়েছেন। সব উপজেলাতেই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আমরা আছি।’