মদনপুরের ইউপি সদস্য ফারুক দৌলত বলেন, গত বছরের নভেম্বরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সংযোগ দিলে, চরাঞ্চল আলোকিত হয়ে ওঠে। চরের মানুষ শহরের মতো টিভি দেখতে পাচ্ছিল। শিশুরা কুপির বদলে বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় পড়তে শুরু করেছিল।

এক সপ্তাহের মাথায় বিদ্যুতের আলো কমতে থাকে। ফলে অনেক উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১০ কোটি টাকার মতো খরচ করে মেঘনা নদীর মধ্যে সাবমেরিন কেব্‌ল টেনে গত বছরের নভেম্বরে ভোলার সদর উপজেলার পরানগঞ্জ সাবস্টেশন থেকে মাঝের চর ও তার পাশের মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন টানা হয়। সেখানে ৭২০ জন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়।

নিম্ন মানের কেব্‌ল কি না জানতে চাইলে ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ ভোলার দুর্গম চরাঞ্চল মুজিবনগর, কুকরি-মুকরি, চর জহিরুদ্দিন, মদনপুরসহ ১০টি চরে মেঘনা, তেঁতুলিয়া নদী ও সাগর মোহনায় সাবমেরিন কেব্‌ল টেনে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছে। কোথাও কোনো ত্রুটি দেখা দেয়নি।

একমাত্র কাচিয়া-মদনপুর ছাড়া। এর একটা কারণ পাওয়া যায়, কাচিয়া পয়েন্টে যেখানে সাবমেরিন কেব্‌ল টানা হয়েছে, সেখানে চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার নৌপথের মালবাহী কয়েক শ জাহাজ নোঙর করে বিশ্রাম নেয়। কেব্‌ল টানার শুরু থেকে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে কথা বলে, জাহাজ মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করে সাবমেরিন কেব্‌লের আশপাশে নোঙর করতে নিষেধ করা হয়েছে। পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু জাহাজের নাবিকেরা সেটা মানেননি।

ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, সাবমেরিন কেব্‌ল সংস্কার, কিংবা বিকল্পভাবে কাচিয়া-মদনপুরের বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের বিদ্যুৎ–সংযোগ চালুর জন্য কেন্দ্রীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি কমিটি গঠন করেছে। তারা সভাও করেছে। দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন