গ্রেপ্তার তিনজন হলেন আলীম সালেহী, রিয়াজ উদ্দীন মোল্লা ও তাঁদের সহযোগী শামীম সিকদার। তাঁরা তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন। তিনজনই একসময় হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দীন আহেমদের সঙ্গে একই ব্যানারে রাজনীতি করতেন। তাঁরা সবাই বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী।

এদিকে মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে আছেন। তবে নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের একটি কক্ষে ঢুকে ছাত্রলীগের নেতা মহিউদ্দীন আহমেদকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হেলমেট ও মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই কক্ষে থাকা তাঁর দুই অনুসারীকেও মারধর করা হয়। তাঁদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, মঙ্গলবারের ওই ঘটনার পর থেকে হলজুড়েই শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে আছেন। সম্ভাব্য নতুন কোনো হামলা বা প্রতিশোধমূলক কোনো হামলার ঘটনায় অনেকেই শঙ্কার মধ্যে আছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। তবে মহিউদ্দীন আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের অনুসারী ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় থাকলেও গত বছরের পর তাঁরা আর ক্যাম্পাসে নেই। ওই পক্ষের নেতৃত্বে আছেন অমিত হাসান ওরফে রক্তিম ও ময়িদুর রহমান ওরফে বাকি। মহিউদ্দীন আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় অমিত হাসান ও ময়িদুর রহমানকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

হামলার শিকার মহিউদ্দীন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আজ সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চাই। যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁরা একসময় আমার সঙ্গে রাজনীতি করলেও তাঁরা আমার জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ উদ্দীন মোল্লা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমি এই হামলায় জড়িত, এটা কাল্পনিক অভিযোগ।’ তিনি পাল্টা অভিযোগ এনে বলেছিলেন, ‘মহিউদ্দীনের বাবা ও বড় ভাই বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতা। তাই মহিউদ্দীন ছাত্রলীগ করলেও আদর্শিকভাবে ভেজাল আছে। তিনি ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের কক্ষ দখল করে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, বালুর ড্রেজার থেকে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে সবাইকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। এই হামলার ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলীম সালেহী, রিয়াজ উদ্দিন মোল্লা, সৈয়দ জিসান আহম্মেদ একসঙ্গে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করলেও সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। মহিউদ্দীন শের-ই-বাংলা হলের চারতলার ৪০১৮ নম্বর কক্ষটি দখল করে সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের বাইরের এলাকার জমি দখল, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের নেতৃত্ব দেন। ফলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র নেতৃত্বের আসনে বসেন। এতে অনেকটা ছিটকে পড়েন বাকিরা।