দুই বান্ধবী একসঙ্গে চলে গেল না ফেরার দেশে

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নদীতে ডুবে মৃত দুই কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের আহাজারি। আজ বুধবার উপজেলার সাওরা গ্রামে
ছবি: সত্যজিৎ ঘোষ

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীতে ডুবে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার সাওরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সুচনা খানম (১৪) নড়িয়ার নয়ন মাদবরকান্দি গ্রামের শওকত আলী খানের মেয়ে। আফরিন জামান (১৪) রাজনগর এলাকার কামরুজ্জামানের মেয়ে।

নড়িয়ার সাওরা গ্রামে নুর মোহাম্মদ দেওয়ানের বাড়িতে বেড়াতে এসে নদীতে গোসল করতে গিয়ে সুচনা ও আফরিন জামানের মৃত্যু হয়। তারা পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরে থাকে।

সুচনা ও আফরিন জামান গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঈদের ছুটি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্কুল খুলবে। বিদ্যালয়ে ফেরার জন্য পরিবারের সঙ্গে আজ বিকেলে গাজীপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পানিতে ডুবে মৃত্যু হওয়ায় তাদের আর ফেরা হলো না। তারা দুজন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে।

সুচনা ও আফরিন জামানের পরিবারের সদস্যরা বলেন, সুচনা খানম পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় থাকত। সেখানে একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। ঈদের পরদিন সাওরা গ্রামে নানা নুর মোহাম্মদ দেওয়ানের বাড়িতে বেড়াতে আসে সে। একই উপজেলার রাজনগর এলাকার আফরিন জামান গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় থাকত। সে বোর্ডবাজারের ওই বিদ্যালয়ে পড়ত। সাওরা গ্রামের নুর মোহাম্মদ দেওয়ান তার ফুফা। সে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওই বাড়িতে বেড়াতে আসে। তারা দুজন ওই বাড়ির আরেক কিশোরীর সঙ্গে আজ বাড়ির পাশের কীর্তিনাশা নদীতে গোসল করতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে ওই তিন কিশোরী নদীতে থাকা একটি গর্তে তলিয়ে যায়। এক কিশোরী উঠতে পারলেও সুচনা আর আফরিন উঠতে পারেনি। তারা দুজন তলিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। বেলা একটার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

আজ বিকেলে সাওরা গ্রামে নুর মোহাম্মদ দেওয়ানের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, দুই কিশোরীর স্বজনেরা বাড়ির উঠানে কান্না করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মীয়স্বজন এসেছেন তাদের শেষবিদায় জানাতে।

বাড়ির উঠানে বিলাপ করতে করতে আফরিনের মা জিয়াসমিন আক্তার ও বাবা কামরুজ্জামান বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্বজনেরা তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। কান্না করতে করতে অচেতন হয়ে পড়ছিলেন সুচনার বাবা শওকত আলী।

আফরিনের বাবা কামরুজ্জামান বলেন, ‘আগামীকাল ওদের স্কুল খোলা। আজ সকালে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মেয়ে বান্ধবীর সঙ্গে একত্রে বিকেলে যেতে চেয়েছিল। এ কারণে সকালে যাওয়া হয়নি। বান্ধবীর সঙ্গে সে না ফেরার দেশে চলে গেল। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচব?’

সুচনার চাচা জালাল উদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুচনা আমার ভাই-ভাবির অনেক আদরের মেয়ে ছিল। ভাই-ভাবিকে সান্ত্বনা দিতে পারছি না। তাঁরা বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন।’

নশাসন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে নদীর পানিতে তলিয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু মানতে পারছি না। আমাদের এলাকার মানুষ এমন মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল। ওই দুই কিশোরীর মৃত্যু হলো একসঙ্গে। দাফনও হলো সাওরা গ্রামে একই কবরস্থানে।’