পদ্মায় জেলের বড়শিতে আটকা পড়া কুমিরটি নেওয়া হচ্ছে খুলনায়

বন বিভাগের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কুমিরটিকে নিয়ে খুলনায় রওনা হন। আজ বিকেলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার কাজীবাড়ি ঘাট এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে জেলের বড়শিতে জড়িয়ে থাকা কুমিরটি উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপানা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য। সোমবার সকাল সাতটার দিকে কুমিরটি ধরা পড়ে।

খবর পেয়ে তন্ময় আচার্যের নেতৃত্বে চার বন বিভাগের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বেলা তিনটার দিকে চরভদ্রাসনের কাজীবাড়ি ঘাট এলাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে ফরিদপুর বন বিভাগের রেঞ্জার তাওহীদ হোসেনসহ আরও চারজন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। পরে কুমিরটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে গাড়িতে করে বিকেল চারটার দিকে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়ে যান।

আরও পড়ুন

তন্ময় আচার্য সাংবাদিকদের জানান, এই কুমির মিঠাপানিতে এলেও এটি নোনাপানির কুমির। এর দৈর্ঘ্য ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি, পুরুষ কুমির এবং ওজন আনুমানিক ৭০ কেজি। এটিকে উদ্ধার করে খুলনা বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পরিচর্যা ও চিকিৎসা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে অবমুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যেহেতু এটি নোনাপানির কুমির, এটি নোনাপানিতে অবমুক্ত করতে হবে।

নোনাপানির কুমির মিঠাপানিতে চলে আসার বিষয়ে তন্ময় আচার্য বলেন, ‘আমরা মানুষেরা খাদ্যের কারণে, আবাসন সংকটের করেন বিভিন্ন জায়গায় অভিবাসী হই। এই কুমিরের ক্ষেত্রে তা–ই ঘটেছে। জোয়ার ভাটার কারণে কিংবা খাদ্যের অভাবে নোনাপানির কুমির মিঠাপানিতে আসতে পারে। এমন হতে পারে হয়তো আবার জোয়ার–ভাটার কারণে এটি চলে যেতে পারত।’ নদীতে আরও কুমির থাকার সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কুমির তো পানিতেই থাকবে। তবে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সার্বক্ষণিক কুমির পাওয়া যায় না। এ রকম কোনো রেকর্ড নেই, সে জন্য আমরা বলতে পারব না এখানেই তার আবাসস্থল।’

তন্ময় আচার্য প্রথম আলোকে বলেন, বড়শিতে বড় মাছ শিকারের জন্য আধার হিসেবে দেওয়া মাছ খেতে গিয়ে কুমিরটি হয়তো হাজারি বড়শিতে জড়িয়ে পড়ে। তবে কুমিরটির শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন কোনো আলামত দেখা যায়নি। শারীরিকভাবেও সবল আছে।