১৫০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেই থাকা যায় পাহাড়ের যেসব হোটেলে

রাঙামাটি শহরের হোটেল গ্রিন হিলে ৬০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে কক্ষ পাওয়া যায়ছবি: প্রথম আলো

ঈদের ছুটি হোক বা সপ্তাহান্তের অবকাশ; অনেকেরই ইচ্ছা পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার। কিন্তু বাজেটের চিন্তায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অথচ তিন পার্বত্য জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে এখনো ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকা বা এর আশপাশে মেলে হোটেলের কক্ষ। তাই কম খরচে রাত কাটিয়ে দিনে ঘুরে দেখা যায় পাহাড়, ঝরনা, হ্রদ, নদী আর সবুজে মোড়া প্রকৃতির নানা রূপ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোও সেজেছে উৎসবের আবহে। পাহাড়ি শহর থেকে শুরু করে জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে কোথাও সাংস্কৃতিক আয়োজন, কোথাও স্থানীয় খাবারের বিশেষ পরিবেশন। পরিবার, বন্ধু ও ভ্রমণপিপাসুদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও। টানা ছুটি ঘিরে ইতিমধ্যে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে পাহাড়ে। তাই প্রকৃতির সঙ্গে ঈদের আনন্দ মিলিয়ে নিতে অনেকের গন্তব্য এবার তিন পার্বত্য জেলা।

শুরুতে বান্দরবানের দিকে চোখ রাখা যাক। কম খরচে বেশি জায়গা ঘুরতে চাইলে বান্দরবানের বিকল্প কম। পাহাড়, ঝিরি, ঝরনা, নদী আর খুম মিলিয়ে প্রকৃতি এখানে উদার। শহরে থাকলে এক দিনে অনেক জায়গা ঘুরে আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসা যায় হোটেলে। জেলা শহরেই আছে মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র, নীলাচল, বোমাং রাজবাড়ি, রাজবিহার। শহরতলিতে রয়েছে শৈলপ্রপাত, রুপালি ঝরনা ও প্রান্তিক লেক। একটু দূরে গেলে দেখা মিলবে চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, দেবতাখুম ও জীবননগরের। আরও সময় থাকলে যেতে পারেন রুমা ও থানচিতে। সেখানে রয়েছে বগালেক, কেওক্রাডং, রিজুক ঝরনা, তিন্দু, রেমাক্রি ও নাফাখুম।

থাকার জন্য শহরের বাজার এলাকায় পাওয়া যায় কম খরচের অনেক বোর্ডিং ও হোটেল। রাজু বোর্ডিংয়ে একজনের থাকার কক্ষ মিলবে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। হাবিব বোর্ডিংয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। হোটেল পর্বতে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। হিমালয় রিসোর্টে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় রুম পাওয়া যায়। এ ছাড়া আল-আমিন বোর্ডিং, আজমীর বোর্ডিং, হোটেল হিলসিটি, মিসকাত, রিলাক্স, নীলাদ্রিসহ আরও অনেক কম খরচের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

বান্দরবান শহরে স্বল্প খরচের দুটি হোটেল—নীলগিরি ও হোটেল রাজু
ছবি: সংগৃহীত

হ্রদের শহরে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় রাতযাপন

পাহাড়ের সঙ্গে হ্রদের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে যেতে পারেন রাঙামাটিতে। শহরের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় অল্প খরচেই।

দর্শনার্থীদের জনপ্রিয় গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি, শুভলং ঝরনা, পলওয়েল পার্ক, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধিস্থল, রাঙা দ্বীপ রিসোর্ট, বার্গি লেক ভ্যালি, ইজোর রিসোর্ট ও কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কের লাভ পয়েন্ট।

থাকার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বিকল্প। হোটেল ক্রাউন প্লাজায় ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। হোটেল রাজমহলে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। মোটেল জর্জে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। হোটেল ডায়মন্ডে ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। হোটেল গ্রিন হিলে ৬০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। হোটেল মাউন্টেইন নিউতে ২০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রুম পাওয়া যায়।

রাঙামাটি হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুপ চৌধুরী প্রথম আলোকে জানান, জেলা সদরে বর্তমানে ৫২টি হোটেল ও মোটেল রয়েছে। ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবে সাজেক যেতে চাইলে খরচ কিছুটা বাড়বে। সেখানে অধিকাংশ রিসোর্টের ভাড়া ২ হাজার টাকা থেকে শুরু। তবে সাজেক হিল ভিউ রিসোর্টে ১ হাজার ৮০০ টাকায় রুম পাওয়া যায়।

খাগড়াছড়িতে ৫০০ টাকায় মিলবে শহরে থাকার ব্যবস্থা

খাগড়াছড়ির সৌন্দর্য এক দিনে শেষ করা কঠিন। আলুটিলা, রিসাং ঝরনা, তারেং, পানছড়ি কিংবা পাহাড়ি জনপদের জীবন কাছ থেকে দেখতে অন্তত দুই দিন সময় নিয়ে যাওয়াই ভালো। কম বাজেটের পর্যটকদের জন্য এখানেও রয়েছে বেশ কিছু আবাসিক হোটেল।

গাঙচিল আবাসিক হোটেলে রুমভাড়া ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা। হোটেল নূর আবাসিকে ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। হোটেল আল-আমিন আবাসিকে ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বাস টার্মিনাল এলাকার হোটেল অবকাশ আবাসিকে ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় রুম পাওয়া যায়।

এসব হোটেলে সাধারণত ওয়াই-ফাই, টেলিভিশন, সংযুক্ত শৌচাগার ও রুম সার্ভিসের সুবিধা রয়েছে। পর্যটকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে রাখতে হয়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের কপিও প্রয়োজন হয়।

খাগড়াছড়ি শহরের হোটেল গাঙচিল
ছবি: হোটেলের ফেসবুক পেজ থেকে

কোথায় সবচেয়ে সাশ্রয়ী?

তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে থাকার সুযোগ মিলছে বান্দরবানে। ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যেও কক্ষ পাওয়া যায়। রাঙামাটিতে ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। খাগড়াছড়িতে সাধারণত ৫০০ টাকার নিচে রুম পাওয়া কঠিন, তবে সুবিধার দিক থেকে অনেক হোটেল তুলনামূলক আধুনিক।

তাই বাজেট যদি ১ হাজার টাকার মধ্যে রাখতে চান, তাহলে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা এখনই করা যায়। দিনে পাহাড়-ঝরনা ঘুরুন। রাতে থাকুন সাশ্রয়ী হোটেলে। কম খরচেই উপভোগ করুন তিন পার্বত্য জেলার প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর বৈচিত্র্যের অনন্য মেলবন্ধন।