অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমনিতে করোনা মহামারিতে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে, এর মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষার আগে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ রাখায় অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি এম এরশাদ কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার তাঁর ছেলে গোলাম মোর্শেদের বিয়ে হয়। বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। তবে বিদ্যালয় বন্ধের ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এই এলাকায় যখন ধান ওঠে, তখন আশেপাশের এলাকায় অনুষ্ঠান করার মতো জায়গা থাকে না। এমনকি ধান কেটেও অনেকে বিদ্যালয়ের মাঠে রাখেন। বিদ্যালয়ের মাঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয়। বুধবার বিদ্যালয়ের মাঠে একটি অনুষ্ঠান ছিল।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তাহলে কোথায় হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
কলারোয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ রাখার বিষয়টি তিনি জানেন। এই অভিযোগ পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই যুগিখালী মমতাজ আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের জবাব পেলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।