হাসপাতাল থেকে সার্কিট হাউসে ফিরেই সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য

চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে প্রশাসনের সহায়তায় বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপাচার্য ভবনের সামনেছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আবারও সার্কিট হাউসে ফিরেছেন। সেখানে ফিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে সার্কিট হাউসে ফেরেন। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন

চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চ্যুয়ালি এই সভা হবে। আমি ছুটিতে আছি। যোগ দিতে পারব কি না নিশ্চিত নই।’

সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার কৌশলের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি মেসেজ পাঠিয়েছেন। মেসেজ পাঠিয়ে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না বা এটা নিয়মের মধ্যে কি না—তা জানি না। সাধারণত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সভার চিঠি আসে।’

উপাচার্য আজ সন্ধ্যা ৬টায় সিন্ডিকেট সভা ডেকেছেন। ভার্চ্যুয়ালি এই সভা হবে। আমি ছুটিতে আছি। যোগ দিতে পারব কি না নিশ্চিত নই।
অধ্যাপক মো. রাশিদুল হাসান, সিন্ডিকেট সদস্য, চুয়েট।

সিন্ডিকেট সভার বিষয়ে জানতে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি সাড়া দেননি। মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে দেন তাঁরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের মধ্যেই গত সোমবার সকাল নয়টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। তবে বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আলটিমেটাম দেন তাঁরা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর তাঁরা ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। উপাচার্য ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

ভবনে তালা দেওয়ায় উপাচার্যসহ ভেতরে ১১ জন আটকে পড়েন। পরদিন অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানান উপাচার্য। তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে যান দুই চিকিৎসক। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন