তুহিনের বাবা মো. আলাল উদ্দিন কৃষিজীবী আর মা মমতাজ বেগম ধাতিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের আয়া। আলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে তুহিন সবার ছোট। জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাঁর কথাও অস্পষ্ট। অনেক চিকিৎসা করালেও প্রতিবন্ধিতা দূর হয়নি। তুহিনের অন্য ভাইবোনেরা পড়ালেখা করেছেন। তাই তুহিনকে অন্ধকারে রাখতে চাননি বাবা। শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে তিনি যেন সমাজের বোঝা না হন, সে জন্য তাঁকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পড়ালেখা করাচ্ছেন।

আলাল উদ্দিন জানান, ছয় বছর বয়সে তুহিনকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন সদর উপজেলার মাঝপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০২০ সালে ধাতিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন।

গতকাল দুপুরে শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে দেখা যায়, শারীরিক প্রতিবন্ধী তুহিনকে শ্রুতিলেখনের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে সহযোগিতা করছে ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও জনতা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন। তুহিন প্রশ্নের উত্তর বলার পর তাঁর সহযোগী সাব্বির খাতায় উত্তর লিখে দিচ্ছে। এ জন্য ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড থেকে তাঁকে (তুহিন) অনুমতি নিতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী হিসেবে নির্ধারিত সময় দুই ঘণ্টার চেয়ে ২০ মিনিট সময় বেশি পান তিনি।

তুহিন জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল হবে বলে তাঁর আশা। এরপর ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হতে চান তিনি। তুহিন বলেন, ‘শারীরিক সমস্যার জন্য আমি একা চলাফেরা করতে পারি না। তাই চলাফেরা করার জন্য বিশেষ ধরনের তিন চাকার একটি বাইক প্রয়োজন। কেউ যদি সেটা উপহার দিত, তাহলে খুব উপকার হতো।’

শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সমাজে অনেক ভালো ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া বাদ দিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। অথচ শারীরিক প্রতিবন্ধিতা সত্ত্বেও অদম্য মেধাবী তুহিন পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের আরও সহযোগিতা করা হলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।