বান্দরবান আসন
ম্রোদের উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: জেরী
জেলার সাতটি উপজেলায় এবারে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। ভোটকেন্দ্র ১৮৬টি। প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্র পড়েছে দুর্গম এলাকায়।
বান্দরবান আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরী বলেছেন, ম্রো জনগোষ্ঠী বান্দরবানে পাহাড়িদের মধ্যে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু যুগের পর যুগ তারা অনগ্রসর রয়ে গেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ম্রো আবাসিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ জন্য বহু কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেও ম্রোদের জন্য অনেক কাজ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ম্রোদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
গতকাল বুধবার লামা উপজেলার দুর্গম ম্রো অধ্যুষিত লুলাইংমুখ ও বান্দরবান সদরের টঙ্কাবতী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাচিংপ্রু জেরী এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় টঙ্কাবতী ইউনিয়নের চাক্কই পাড়ায় নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন জেরী। সেখানে তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান গ্রামবাসী। চাক্কই পাড়ায় অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দিতে দূরদূরান্ত থেকে অনেক ম্রো নারী শিশুসন্তানকে নিয়ে উপস্থিত হন। সেখানে ম্রোদের উদ্দেশ্যে জেরী ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনি বিজয়ী হলে বিএনপি ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হবে। শহীদ জিয়াই যুগ যুগ ধরে অবহেলিত ও অনগ্রসর ম্রোদের উন্নয়নে প্রথম কাজ শুরু করেন। তিনি সুয়ালকে ম্রো আবাসিক উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই ফ্যামিলি কার্ডে ম্রোদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
টঙ্কাবতী থেকে লামা উপজেলার আরও দুর্গম লুলাইনমুখ বাজার এলাকায়ও জনসংযোগ করেন জেরী। সেখানে তিনি বলেছেন, ম্রোরা বান্দরবান পার্বত্য জেলায় পাহাড়িদের মধ্যে মারমাদের পরে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু শিক্ষা-সংস্কৃতিতে ও আর্থসামাজিকভাবে সবচেয়ে অনগ্রসর। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ম্রোদের উন্নয়নে শহীদ জিয়া যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ শুরু করেছিলেন, সে ধারাবাহিকতায় আবার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয় ম্রো নেতা খামলাই ম্রো, চংরেং ম্রো জেরীর বক্তব্য ম্রো ভাষায় তুলে ধরেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিংপ্রু জেরী ২০১৮ সালে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু রাতের ভোটের কারণে বিজয়ী হতে পারেননি। তারপরও তিনি ৫৮ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়েছিলেন। নৌকার প্রার্থী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৬ ভোট। এবারে বান্দরবান-৩০০ আসনে বিএনপির সাচিংপ্রু জেরীর সঙ্গে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় পার্টি (কাদের) আবু জাফর মো. ওয়ালীউল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
জেলার সাতটি উপজেলায় এবারে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। ভোটকেন্দ্র ১৮৬টি। প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্র পড়েছে দুর্গম এলাকায়। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অতি দুর্গম ১২টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে করে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আনা নেওয়ার করতে হবে। মোট ভোটকেন্দ্রের দুই–তৃতীয়াংশ অতিগুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)। ভোটকেন্দ্রগুলোর দূরত্বের কারণে অনেক ভোটার, বিশেষ করে নারীদের বিশাল একটি অংশ ভোট দিতে পারেন না।
চিম্বুক পাহাড়ের কাপ্রুপাড়া থেকে আসা মেন দুই ম্রো, চাহ্লাপাড়ার লেংক্রে ম্রো দূরত্বে সমস্যার কথা বলেছেন। তাঁরা বলেন, কাপ্রুপাড়ার মানুষকে ভোট দেওয়ার জন্য যেতে হয় প্রায় ১৫ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পালংমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। ভোটকেন্দ্র এলাকায় রাত যাপন না করলে ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না।