জামিনে মুক্তির প্রায় দুই মাস পর আদালতে হাজিরা দিলেন আইভী

জামিনে মুক্তির প্রায় দুই মাস পর আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীছবি: প্রথম আলো

জামিনে কারামুক্ত হওয়ার প্রায় দুই মাস পর একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আদালত তাঁর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে মামলাটির বিচার শুরুর আগপর্যন্ত তাঁর পক্ষে আইনজীবী আদালতে হাজির হতে পারবেন।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজির হন আইভী।

সদর মডেল থানা–পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় আইভীর আইনজীবী তাঁর ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজের বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আইভী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন বলে জানান নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, একই মামলায় দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। অভিযোগপত্রে আইভীসহ ৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ সময় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সব সময় নারায়ণগঞ্জে হত্যা, অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আজ আমিই নাকি অপরাধী। যা–ই হোক, এটার বিচার আল্লাহ আছেন, আমার নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন, তাঁরা দেখবেন।’

আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা এ মামলার এজাহারে সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম ছিল না। তবে গত বছরের ১৮ নভেম্বর তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইভী দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়, আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন।

গত ৩ জুন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান আইভী। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে নিজ বাসভবনে ফেরেন। এর আগে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সহিংসতার অভিযোগে মোট ১২টি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। দুই দফায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নতুন কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হলে তাঁর মুক্তির আইনি জটিলতা দূর হয়।

সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহসভাপতি ছিলেন।