সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মেয়র খায়রুজ্জামান বলেন, ‘একসঙ্গে এত গুণী ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দেওয়ার সৌভাগ্য আমরা বেশি পাই না। দেশবরেণ্য গুণীজনেরা দেশের জন্য, জাতির জন্য, স্বাধীনতার মূল¯স্রোত ধরে রাখার জন্য এবং সংবিধান সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করেছেন; সেই ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। তাঁরা তাঁদের কর্মের মাধ্যমে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তের আখরে লেখা আমাদের সংবিধান। সংবিধান যেভাবে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে, তা কষ্টের। আপনারা খেয়াল রাখবেন, এই সংবিধান যেন আমরা আমাদের বক্ষে ধারণ করি, এটাকে প্রটেক্ট করি।’ রাজশাহী শহরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে ২০১৫ সালে একবার এসেছিলাম। এবার এসে দেখছি আমূল পরিবর্তন। রাজশাহীর দৃশ্যমান এই উন্নয়ন প্রমাণ করে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

রাজশাহী নগরের উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ আর কোনো দিন হবে না। কারণ, মানুষের এখনো পণ্য ক্রয়ের সক্ষমতা রয়েছে। গ্রামের কৃষিশ্রমিকেরা এখন প্রতিদিন ৫০০–৬০০ টাকা আয় করেন। দুর্ভিক্ষ শুধু উৎপাদনহীনতার জন্য হয় না, মানসিকতার জন্য দুর্ভিক্ষ হয়। সবার আগে মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন।

সাংবাদিক আবেদ খানের কথায়, রাজশাহীর প্রতি পদে পদে ইতিহাস কথা বলে। রাজশাহীর গম্ভীরা দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। তিনি জানান, যতবার এই রাজশাহীতে এসেছেন, এই শহরের প্রতি ভালোবাসা তত বেড়েছে। রাজশাহী প্রত্যেক গুণী মানুষের জন্য নগর উদ্যান। রাজশাহী সবুজ চিরতরুণ নগরী।

সংবর্ধনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী বলেন, ১৮৯২ সালের নভেম্বরে রাজশাহী শহরে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এরপর ১৯২৮ সালে আরেকবার আসেন। তিনি যতবার রাজশাহী এসেছেন, ততবার তিনি রাজশাহী দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, তাঁর মন ভালো হয়েছে। রাজশাহীর ঐতিহ্য, শিক্ষা নগরের ঐতিহ্য। অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রাজশাহীর সন্তান। ইতিহাস–ঐতিহ্যের নগর রাজশাহী। এ ভূমিতে জন্মেছেন রাজশাহীর কৃতী সন্তান শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান। রাজশাহীকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে মানুষটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিচারক, বিশিষ্ট নাগরিক, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতা, চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও বিভাগীয় প্রধান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষক, স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নগর ভবনের ফটকে পৌঁছালে সংবর্ধিত গুণীজনদের বর্ণিল আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয়। নৃত্য ও গানে গানে তাঁদের সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাগত নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যগোষ্ঠী ধ্রুপদালোকের শিল্পীরা।

এর আগে আজ সকালে নগরী সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে এবং কাদিরগঞ্জে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংবর্ধিত গুণীজনেরা। বিকেলে নগরীর টিঁ-বাঁধ পরিদর্শন ও পদ্মায় নৌভ্রমণে যোগ দেন গুণীজনেরা। সন্ধ্যায় সার্কিট হাউসে অতিথিদের সম্মানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।