মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তিন বছর বয়সী ছেলে দীপুকে নিয়ে নদী পার হচ্ছিলেন ভূপেন্দ্র নাথ বর্মণ (৪২) ও রুপালি রানী (৩৬) দম্পতি। নৌকাডুবিতে তলিয়ে যান তাঁরা তিনজনই। ঘটনার পর শিশু দীপু উদ্ধার হলেও নদীর পানিতে তলিয়ে যান ভূপেন ও রুপালি। ঘটনার পরদিন রুপালি রানীর লাশ উদ্ধার করা হলেও দেড় মাস পর উদ্ধার করা হলো নিখোঁজ ভূপেন্দ্র নাথের লাশ।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক আউলিয়ার ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে বালু তুলতে যান। বালু তোলার একপর্যায়ে নদীর হাঁটুপানি গভীরতায় বালুর ভেতরে শক্ত কিছু অনুভব করেন তাঁরা। এ সময় শ্রমিকেরা সেখানকার বালু সরাতে গেলে প্রথমে কিছু কাপড় দেখতে পান। পরে তাঁদের সন্দেহ হলে বালু খনন করে তাঁরা একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় লাশটি নদীর পাড়ে তোলেন। এদিকে নৌকাডুবির স্থানে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরাসহ স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। পরে লাশটি ভূপেন্দ্র নাথের বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেন।

ভূপেন্দ্র নাথের বড় ছেলে দীপন চন্দ্র বর্মণ (১৭) বলে, ‘নদীতে লাশ পাওয়া গেছে, এমন খবর পেয়ে আমরা নদীর পাড়ে ছুটে আসি। পরে এসে লাশের কাপড়চোপর দেখে বুঝতে পারি, লাশটি আমার বাবার। এখন প্রশাসনের লোকজন তাঁদের আইনি কাজকর্ম শেষে লাশটি আমাদের হাতে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজয় কুমার রায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পরনের কাপড়চোপর দেখে লাশটি ভূপেন্দ্র নাথের বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্বজনেরা। এ ছাড়া লাশের সঙ্গে একটি মুঠোফোন ও সিম পাওয়া গেছে। ওই সিম চালু করে লাশটি ভূপেন্দ্র নাথের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বাজারের পাশে করতোয়া নদীর আউলিয়া ঘাট থেকে শতাধিক মানুষ নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। যাত্রীদের অধিকাংশই বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ঘাট থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর নৌকাটি ডুবে যায়।

নৌকাডুবির ঘটনায় এর আগে ৬৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ঘটনার চতুর্থ দিন গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সর্বশেষ এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার দেড় মাসের মাথায় আজ আরও একজনের লাশ উদ্ধার করা হলো। জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত নিখোঁজের তালিকায় থাকলেন আরও দুজন। তাঁরা হলেন বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া-কলেজপাড়া এলাকার সরেন্দ্র নাথ বর্মণ (৬৫) ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার ঘাটিয়ারপাড়া এলাকার শিশু জয়া রানী (৪)।