রংপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা

হরতালের সমর্থনে রংপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ মিছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের প্রেসক্লাব চত্বরে
ছবি: প্রথম আলো

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ডাকা হরতালের সমর্থনে রংপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় জেলা বাসদের আহ্বায়ক আবদুল কুদ্দুসকে আটক করলেও পরবর্তী সময়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করে আজ সারা দেশে অর্ধদিবস হরতালের ডাক দেয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। হরতালের সমর্থনে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করেন জোটের নেতারা। এ সময় বাসদের (মার্কসবাদী) জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা সভাপতি আবদুল কুদ্দুস, বাম জোটের নেতা মমিনুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে শহরে মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা।

বাসদ নেতা অমল সরকার জানান, সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে জীবনবীমা মোড় হয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ অতর্কিত হামলা ও লাঠিপেটা করে ব্যানার-ফেস্টুন কেড়ে নেয়। সেখান থেকে জেলা বাসদের আহ্বায়ক আবদুল কুদ্দুসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান বলেন, বাসদ নেতা আবদুল কুদ্দুসকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতালে রংপুরে কোনো প্রভাব পড়েনি। সকাল থেকেই অফিস আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। নগরে যান চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। নিরুত্তাপ হরতালে রংপুর থেকে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলাচলের পাশাপাশি ট্রেন ও আন্তজেলার বাস চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তফসিল–পরবর্তী সংঘাত এড়াতে পুরো জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল।