বোনের বাড়িতে ইফতারি দিয়ে ফেরার পথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় যুবক নিহত
প্রায় দুই মাস আগে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী বাদল মিয়া (৩৫)। রমজানের প্রথম দিন শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁদের পরিবারের জন্য পাঠানো হয় ইফতারসামগ্রী। এগুলোর কিছু অংশ নিয়ে মোটরসাইকেলে বড় বোনের বাড়িতে দিতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকায় ঘটে। বাদল মিয়া বাছিরপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত মঙ্গল মিয়ার ছেলে। তিনি প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর স্থানীয় ডিলার ছিলেন।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে বিয়ে করেন বাদল। গতকাল বিকেলের দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁদের বাড়িতে ইফতারসামগ্রী পাঠানো হয়। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে তা বিলি করা হচ্ছিল। বাদল পাশের খালেরমুখ বাজার এলাকায় তাঁর বড় বোনের বাড়িতে ইফতারি নিয়ে যান।
সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বাছিরপুরের হেলাল উদ্দিনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে বিপরীতমুখী একটি পিকআপ ভ্যান বাদলের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। অবস্থার অবনতি ঘটলে সেখান থেকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল রাত ১০টার দিকে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাদলের স্ত্রীসহ স্বজনেরা বিলাপ করছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বাদলের বড় ভাই মোরশেদ আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভাইটা (বাদল) ব্যবসা শুরুর পর বিয়ে করল। বিয়ের দুই মাসও গেল না, চলে গেল। কী করে নিজেরে সান্ত্বনা দিই।’
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিনহাজ উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে।