নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ছাদে ধর্ষণ থেকে বাঁচতে চিৎকার–চেঁচামেচি করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী নারী। ভুক্তভোগী নারী (১৮) আজ বুধবার সকালে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা বলেন।
আজ সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুক্তভোগী নারীকে আদালতে হাজির করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন আরা ওই নারীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। পরে ওই নারীকে তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী বলেন, শিশুসন্তানের চিকিৎসার জন্য তিনি হাসপাতালে ছিলেন। গরমের কারণে তিনি ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে লিফটের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত তাঁর হাত চেপে ধরেন এবং লিফটের মধ্যে টেনে নিয়ে যান। তাঁকে ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তিনি চিৎকার–চেঁচামেচি করেন, কিন্তু কেউ তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি। অমিত তাঁকে ধর্ষণ করেন। অনিল ও প্রাঙ্গণ নামের দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোবাইল ফোনে সেটি ভিডিও করেন।
জবানবন্দিতে ভুক্তভোগী নারী আরও বলেন, অমিতের নির্দেশে ওই দুজন চলে যান। তাঁরা পরে আবার এসে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করতে চান। কিন্তু অমিত তাঁদের তাড়িয়ে দেন। ওয়ার্ডে ফিরে ওই নারী সন্তানকে কান্নাকাটি করতে দেখেন। তিনি ধর্ষণের ঘটনাটি হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের জানান।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান ভুক্তভোগীর ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার সব ব্যবস্থা তাঁরা করেছেন। আসামিদের কাছ থেকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। এ ছাড়া ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে।
৫ জুন শহরের এক মা তাঁর দুই বছরের সন্তানকে চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৭ জুন রাত ১১টার দিকে তিনি হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ অমিত, অনিল ও প্রাঙ্গণকে গ্রেপ্তার করেছে।