ফরিদপুরে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

রায় ঘোষণার পর আসামিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ রোববারছবি: প্রথম আলো

ফরিদপুরে এক শিক্ষার্থীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে সোহেল শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আজ রোববার বেলা একটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবক ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা। অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাঁকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে এই কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে মো. সোহেল শেখ তাঁকে বিরক্ত করতেন। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারের লোকজন ছেলের অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে নিজের সহযোগীদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করেন মো. সোহেল শেখ। ২৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। এজাহারে সোহেল শেখের পাশাপাশি তাঁর ভাই রাসেল শেখ (৩২) ও তাঁদের সহযোগী আরিফ শেখকেও (৪০) আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সানোয়ার হোসেন। ২০১৭ সালের ২ মার্চ তিনি এই তিনজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী বলেন, আদালত সোহেল শেখের দুটি অপরাধে দুটি ধারায় রায় প্রদান করেছেন—একটি অপহরণ ও অপরটি ধর্ষণ। দুটি অপরাধে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে।