মামলার আবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন নোয়াখালীর তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ (বর্তমানে ডিআইজি), বেগমগঞ্জ সার্কেলের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান শেখ, বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান ও বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন।

খুরশিদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, আবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিরা একই জেলায় কর্মরত থাকায় এত দিন নিরাপত্তার ভয়ে মামলা করতে পারেননি। এখন তাঁরা বদলি হয়ে যাওয়ায় মামলার আবেদন করেছেন। তিনি আদালতের কাছে স্বামী হত্যার ন্যায়বিচার চেয়েছেন।

আদালতে বাদীর আবেদনের ওপর শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মাহফুজার রহমান ওরফে ইলিয়াছ। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন বি ইউ এস কামরুল ইসলাম, এ বি এম জাকারিয়া প্রমুখ।

মামলার আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় এসআই জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ তাঁর স্বামীকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে স্বামীর খোঁজে থানায় গেলে তাঁকে দেখা করতে না দিয়ে দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। থানা থেকে বের হওয়ার পথে প্রধান ফটকে একজন পুলিশ সদস্য তাঁকে জানান, পরদিন তাঁর স্বামীকে আদালতে হাজির করা হবে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পরদিন সকালে তিনি থানায় গেলে একজন এসআই তাঁকে জানান, তাঁর স্বামী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছেন। তখন তিনি সেখানে গিয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্বামীর লাশ দেখতে পান। তখন লোকমুখে জানতে পারেন, আগের দিন রাতে তাঁর স্বামীকে অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে গুলি করে হত্যা করেছেন।

ঘটনার পরদিন বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি সাজেদুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হুদা মোহাম্মদ আলম ১০টি মামলার পলাতক আসামি। তাঁকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রাতে অভিযানে যায় থানা–পুলিশের একটি দল। একপর্যায়ে দাসপাড়া গ্রামের একটি বাগানে আলমের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আলম। পরে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আইনজীবী মাহফুজার রহমান বলেন, হুদা মোহাম্মদ আলম পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় নিহত হয়েছেন। এ কারণে তাঁরা নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর ১৫(২) ও (৩) ধারায় ন্যায়বিচার চেয়ে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন।