মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর মহানগরীর মাজুখান উত্তরপাড়ায় মো. ফারুকের মুরগির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন নাসির মিয়া। মালিক ফারুক দোকানে সময় দিতেন না। নাসির মিয়া নিজেই মুরগি ও মুরগির খাবার বেচাকেনা করতেন। ফিড খেয়ে ফেলার সময় মুরগি তাড়ানোর জন্য দোকানদার নাসির খেলনা পিস্তল দিয়ে মুরগি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তেন। পাশের গলির জুয়েলের ছেলে সিহাব মাঝেমধ্যে তাঁর দোকানে আসত এবং খেলনা পিস্তলের ছোড়া গুলি শিশু সিহাব কুড়িয়ে আনত। নাসির মাঝেমধ্যে সিহাবকে চিপস কিনে দিতেন। শিশু সিহাব নাসিরকে মুরগি চাচ্চু বলে ডাকত। এভাবে ভিকটিম সিহাবের সঙ্গে নাসিরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর দুপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সময় সিহাব মুরগি দোকানি নাসিরের রুমে যায়। তখন নাসির সিহাবকে ধর্ষণ করতে চাইলে সে চিৎকার দেয়। তখন নাসির মুখ চেপে ধরলে সিহাবের দেহ নিথর-নিস্তেজ হয়ে যায়। পরে সিহাবের মরদেহ খাটের নিচে রেখে দরজা লাগিয়ে নাসির বাইরে চলে যান। পরে ভোররাতে সিহাবের মরদেহ সালাম মুন্সির বাড়ির পাশে ফেলে রাখেন নাসির। ঘটনার তিন দিন পর নাসির এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে যান। দুই দিন পর চট্টগ্রাম থেকে ফিরে আসেন নাসির। এর এক সপ্তাহ পর নাসির ৪০ দিনের জন্য চিল্লায় চলে যান।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত সিহাবের দাদি নাছিমা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে পুবাইল থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই এই শিশু হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, গত সোমবার (১৬ জানুয়ারি) নাসিরকে জেলার মাজুখান এলাকা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নাসির মিয়া শিশু সিহাব হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন। পরে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।