চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে ১০ কিলোমিটারের চারটি সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের আওতাধীন ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) এ সড়ক নির্মাণ করবে। গত বৃহস্পতিবার থেকে কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। সড়কের পাশাপাশি কালভার্ট, সেতু ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ২৪ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আলম মাসুদ। তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরেরর ছিন্নমূল থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে টেক্সটাইল হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি সড়ক, আলীনগর থেকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে একটি সংযোগ সড়ক হবে। এ ছাড়া একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক তৈরি করা হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল আলম মাসুদ বলেন, ‘প্রথমে আলীনগর থেকে একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। সড়কটি ১৮ ফুট প্রশস্ত হবে। পাহাড়ধস ঠেকাতে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। সড়কগুলোর নির্মাণ শেষ হলে তিন দিক থেকেই সহজে যাতায়াত করা যাবে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ হবে। এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সড়কের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।’
এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বহুল আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পাকা করতে গত ২ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন বলছে, ৩ হাজার ১০০ একরের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস দমন ও নজরদারি কার্যক্রমে গতি আনতে তিনটি সড়ক জরুরি ভিত্তিতে পাকা করা দরকার। সে জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ থোক বরাদ্দ চাওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর মূলত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। এলাকাটি নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি ছিল। তখন থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে গেলে নারী ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করত সন্ত্রাসীরা।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাবের একটি দল অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা ও গুলি চালায়। এতে র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আরও তিনজন আহত হন। এরপর গত ৯ মার্চ ভোর ছয়টা থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রায় চার হাজার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জায়গাটি দখলমুক্ত করে।