পাবনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গৃহবধূ নিহত, আহত ২৫
পাবনার সুজানগর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের চায়না খাতুন (৪০) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আর অন্তত ১০ জন। আজ সোমবার সকালে উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
প্রায় একই সময়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সুজানগর থানা–পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলামের পক্ষের সঙ্গে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিকের পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গতকাল রোববার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। আজ সকালে ইসলাম প্রামাণিকপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হচ্ছিলেন। এ সময় রাফিউলের লোকজন লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ ও বাড়ি ভাঙচুর করেন। গুলিতে উপজেলার ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী চায়না ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ছাড়া গুরুতর আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইসলাম প্রামাণিকের দাবি, তাঁর ভাগনে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন। এ জন্য গতকাল রাতে রাফিউলের লোকজন ভিটবিলা বাজারে তাঁকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ঘটনা শুনে তাঁদের এ বিষয়ে মারামারি না করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা উল্টো তাঁর ওপরও হামলা করে করেন। খবর পেয়ে তাঁর লোকজন জড়ো হয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয় আলোচনা করে এ বিষয়ে সমঝোতা করা হবে। এর মধ্যেই সকালে রাফিউলের লোকজন লাঠিসোঁটা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গ্রামের লোকজনের ওপরে গুলি ও হামলা চালান। এতে গুলিতে চায়না নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
তবে রাফিউল বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক।’
জানতে চাইলে সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই গৃহবধূ গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ঈশ্বরদী থানার পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রউফ আবদুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা আলাদা সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে হাবিবুর রহমানের সমর্থকেরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিল শেষ হওয়ার পর গুলিবর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের সময় পোস্ট অফিস মোড়ে হাবিবুরের কার্যালয়ের সামনে থাকা অন্তত ১০টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দফায় দফায় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আতঙ্কে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। দুই পক্ষের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্যসহ ১৫ জন আহত হন। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহল শুরু করলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।