জাহাঙ্গীরনগরে শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য ও শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবন থেকে মিছিল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে যান তাঁরা। পরে তাঁরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে বারবার আলোচনার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। ফলে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি করতে বাধ্য হয়েছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তাঁরা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি সমাবেশ করেন। ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় একই ব্যাচের তাহমিনা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা ইংরেজি বিভাগে প্রতিটি ব্যাচে প্রায় ৯০ জন করে শিক্ষার্থী। আমি জানি না, এই ক্যাম্পাসে আর কোনো বিভাগে এত শিক্ষার্থী আছে কি না। এত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও মোট শ্রেণিকক্ষ মাত্র তিনটি, এর মধ্যে একটি বেশ ছোট। এত অল্পসংখ্যক রুমে কোনোভাবেই আমাদের ক্লাস পরিচালনা সম্ভব নয়—এটা বাস্তবতা, যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শিক্ষকসহ একাধিকবার আরেকটি বিভাগে ক্লাস করতে গিয়েছি। সেখানে আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছে। আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসরুম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।’
৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভাগের সভাপতি, অনুষদের ডিন, উপাচার্যসহ প্রশাসনের সবার সঙ্গে বারবার কথা বলেছি, মিটিং করেছি। তাঁরা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমাধান হয়নি। আমাদের ক্লাসরুম–সংকটের সমাধান না হলে সবাই রেজিস্ট্রার ভবনে ক্লাস করব এবং সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
জাকসুর কার্যকরী সদস্য ও ইংরেজি বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ‘এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করার মতো ন্যূনতম পরিবেশ থেকেও বঞ্চিত। আমাদের বাস্তবতা এমন যে একটি ব্যাচের ক্লাস চলাকালে আরেকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। বড় ভাইদের ক্লাস চলার সময় ছোট ভাইদের ক্লাস বন্ধ থাকে, আবার ছোটদের ক্লাস নিতে গেলে বড়দের বাইরে দাঁড়াতে হয়। এভাবে একটি বিভাগ বছরের পর বছর চরম অনিয়মের মধ্য দিয়ে চলছে।’