বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. তারিক হোসেন বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে গত ১৫ অক্টোবর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। লিখিত বক্তব্যে শফিকুল দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিজয়ী চেয়ারম্যানপ্রার্থী আল মামুন সরকার আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ধ্বংসকারী এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোটি টাকার মনোনয়ন–বাণিজ্যের ‘মহানায়ক’। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার অটোরিকশা ও ইজিবাইকের কথিত অবৈধ লাইসেন্স দেওয়ার মূল হোতা, জনবিছিন্ন নেতা ও ভোটারদের ভয় দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের এসব বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর। এতে আল মামুন সরকারের মানহানি হয়েছে।

মামলার আবেদনে আল মামুন সরকার অভিযোগ করেন, ১৫ জানুয়ারি শফিকুল আলম তাঁর লিখিত বক্তব্যে আল মামুন সরকারকে পৌরসভার ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়ার ‘মূল হোতা’ বলেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আল মামুন সরকার পৌরসভার মেয়র কিংবা মুখ্য কোনো কর্মকর্তা নন। তিনি পৌরসভার কোনো কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করা হয়। তারপরও আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, জঘন্য, কটাক্ষপূর্ণ, আপত্তিজনক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন শফিকুল আলম, যা ১৬ অক্টোবর জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এতে জনসমক্ষে আল মামুন সরকারের চরম মানহানি হয়েছে।

জানতে চাইলে শফিকুল আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখনো কোনো নোটিশ পাইনি। আদালতের চিঠি পেলে উত্তর দেব।’ সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কথাগুলো তো বলেছি। সারা দেশে কত টক শো হয়। কত মানুষ কত কথা বলে। তাই বলে সবাই কি মানহানির মামলা করে। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমতা দিয়েছে, এখন কেউ যদি অর্থহীনভাবে দরবার করে তাহলে কী করার আছে।’