সড়ক বেহাল, কার্যাদেশের পরও শুরু হয়নি কাজ

প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বেহাল। গত মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজ শুরুর কথা, কিন্তু শুরু হয়নি।

ডোমার–বসুনিয়া হাট সড়ক এমনই বেহাল। বৃহস্পতিবার নীলফামারীর ডোমার শহরের আরডিআরএস মোড় এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

নীলফামারীর ডোমার থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বেহাল। সড়ক সংস্কারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তারা এখনো কাজ শুরু করেনি। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে লোকজনকে।

উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বসুনিয়ার হাট একটি ব্যবসাপ্রসিদ্ধ এলাকা। এ কারণে প্রতিদিনই সড়কটিতে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু বেহাল সড়কের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ব্যক্তিরা।

গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, ডোমার উপজেলা শহর থেকে সড়কের প্রবেশমুখে অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে কাদাপানি। সড়কজুড়ে একই অবস্থা। সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

সড়ক নিয়ে কথা হয় ডোমার পৌরসভার পশ্চিম চিকনমাটি মহল্লার মো. নুরুজ্জামান ইসলামের সঙ্গে। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘এতুলা নেতা থাকার পরেও রাস্তা ভালো হয় না। সবায় ভোট নেয়, আর যায়, কাহো রাস্তা ঠিক করে না।’ সোনারায় ইউনিয়নের জাল্লির মোড় এলাকায় কথা হয় পূর্ব খাটুরিয়া গ্রামের আক্কাস আলী প্রামাণিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন যেমন রাস্তায় কাদাপানি, বৃষ্টি গেলে ধুলায় একাকার হয়ে যায় সড়ক।’

২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ২৩ জুন এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২৯ জুন কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় লোকজন বলেন, ১০ বছর ধরে সড়কটি ভাঙা পড়ে আছে। সড়ক সংস্কারের জন্য আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজও দেওয়া হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সড়ক খুঁড়ে খোয়া বিছায়। এরপর আর ঠিকাদারের দেখা নেই।

নীলফামারী জেলা বিএনপির সদস্য ও ডোমার পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আনিছুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সোনারায় ইউনিয়নের খটুরিয়া গ্রামে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় এক যুগ ধরে ডোমার থেকে বসুনিয়ার হাট পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে।

কিছু মেজারমেন্ট বাকি আছে। সেটি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্য কাজটি শুরু করা হবে।
এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল, ঠিকাদার

এলজিইডির নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ডোমার-বসুনিয়ার হাট ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ডোমার-আমবাড়ি ১৩ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার এবং বোড়াগাড়ি-বাবুরহাট ৪ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার সড়ক একটি প্যাকেজে সংস্কারের জন্য ২০২১ সালে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। ২০২১ সালের ১৪ জুলাই তাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজও শুরু করে। তবে ২০২২ সালের অক্টোবর মাস থেকে কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। এরপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কাজটি বাতিল করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই প্যাকেজের পুনঃ দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় এসবি জেভি। ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে চলতি বছরের ২৩ জুন এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী, ২৯ জুন কাজ শুরু করে ২০২৭ সালের ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, কিছু মেজারমেন্ট বাকি আছে। সেটি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্য কাজটি শুরু করা হবে।

এলজিইডির নীলফামারীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার বলেন, সর্বনিম্ন দরদাতা এসবি জেভিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।