রাউধার বাবা চিকিৎসক মোহাম্মদ আতিফের আইনজীবী আসলাম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লাশ নামানো হলে দরজায় আঘাত থাকবে। ছিটকিনি ভাঙা বা বাঁকানো থাকবে। ৪০ কেজি ওজনের একটা মানুষও যদি ফ্যানে ঝুলে, তাহলে সেই ফ্যানেও একটা চিহ্ন থাকবে। পরীক্ষায় তা ধরা পড়বে। এসব কিছুই পাওয়া যায়নি। তাহলে কীভাবে আত্মহত্যা করলেন তিনি? বিষয়গুলো আদালতকে বোঝানো হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আদেশের কপি দ্রুত আদালত থেকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে।

মামলাটি পুনরায় চালু করার জন্য রাজশাহীতে আসেন রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ। মামলা লড়তে এসে তিনি রাজশাহীতে বিয়ে করেন। বেলা তিনটায় আদালত চত্বরে তাঁকে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রীও।

মামলার বাদী রাউধার বাবা বলেন, তিনি একজন চিকিৎসক। তিনি নিশ্চিত, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তদন্ত প্রভাবিত হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। তাই আবার আদালতে নারাজি দিয়েছিলেন। আজ আদালতের এই আদেশের মাধ্যমে নথিজাত হওয়া একটা ‘মৃত’ মামলা পুনরুজ্জীবিত হলো। তিনি আশা করেন, এবার তদন্তে হত্যার বিষয়টি উঠে আসবে।

ময়নাতদন্ত শেষে রাউধার লাশ রাজশাহীতে দাফন করা হয়। প্রথমে রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছিল। মামলার পর কবর থেকে লাশ তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। দুই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই বলা হয়, রাউধা ‘আত্মহত্যা’ করেছেন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর নগরের শাহ মখদুম থানার তৎকালীন পরিদর্শক আনোয়ার আলী ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আসমাউল হক আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এতে নারাজি দেন রাউধার বাবা। আদালত তা গ্রহণ করে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাইদুর রহমান ২০১৯ সালের ১৮ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আসামি সিরাত পারভীনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো তথ্য-প্রমাণ পায়নি পিবিআই। তিনিও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেন। এই প্রতিবেদনের পর আদালত মামলাটি নথিজাত করেন।

এতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবারও মামলাটি তদন্তের আবেদন করেছিলেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আসলাম সরকার জানান, ২০২০ সালের ২ জানুয়ারি মহানগর দায়রা ও জজ আদালতে মামলার রিভিশন আবেদন করেন বাদী। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল আদালতে রিভিশনের আবেদন মঞ্জুর হয়। সেই দিন নিম্ন আদালতে বাদীকে নারাজি আবেদন দাখিলের অনুমতি দেন আদালত।

এরপর ২৯ জুন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ বাদীর নারাজি আবেদন দাখিল করা হয়। এরই শুনানির প্রাক্কালে আদালত মামলার বাদী মোহাম্মদ আতিফের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আদেশ দেন। আদেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটি তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

মালদ্বীপের বাসিন্দা রাউধা আতিফ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের হোস্টেলের একটি কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ যখন লাশটি উদ্ধার করে, তখন সেটি বিছানার ওপর শোয়ানো ছিল। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, রাউধা ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ যাওয়ার আগেই দরজা ভেঙে লাশটি নামানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন