চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৮

গত সোমবার চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডে চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের হামলাফাইল ছবি

চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে চকবাজার থানা ও ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তার আটজন হলেন মোহাম্মদ ইউনুস, ইমরান হোসেন, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মোহাম্মদ মনির, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন ও আবদুল নাহিদ।

আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে নগরের দামপাড়া নগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে চার থেকে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না, প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুঠোফোনের এক প্রান্ত থেকে ইমন পরিচয় দিয়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁরা ছুরি ও কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না। তাঁদের হামলার ধরন কেমন, তা পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীরা নিজেদের বাঁচাতে অনেক রকম কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অস্ত্রবাজির ঘটনায় জড়িত অনেককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। উল্লেখ্য গত সোমবার দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডট নেট নামের একটি ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানে আমলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীদের আসামি করে মামলা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল হঠাৎ ডিডিএনের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। দেশি অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা অফিসের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন এবং বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সদস্যরা এক সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। গ্রেপ্তার করা না হলে ইন্টারনেট-সেবা বন্ধের এই হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনের পর প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।